চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত দুই শতাধিক পরিবার।
দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতায় এলাকাটির জনজীবন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুমিনুল হকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শোরশাক উত্তর পাড়া ইসলামি মডেল দাখিল মাদ্রাসার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে রয়েছে। হাঁটুসমান পানি ভেঙে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়দের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী মায়েরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে তাদের হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দখলবাজিই জলাবদ্ধতার মূল কারণ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হালট ও পানি নিষ্কাশনের পথগুলো দখল করে প্রভাবশালীরা মাছের ঘের তৈরি করায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার হাতেম আলী বলেন, “সরকারি ড্রেনেজ ব্যবস্থা দখলের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ না করলে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা জাকিয়া আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, “ঘরটি সড়ক থেকে নিচু হওয়ায় ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। আমার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমি অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।”
দায়সারা আশ্বাস ও প্রশাসনের নজরদারি
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “যাদের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
প্রশাসনের আশ্বাসে কিছুটা আশান্বিত হলেও, কার্যত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জোরালো হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের এই দুই শতাধিক পরিবার। এই সংকট সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগই এখন ভুক্তভোগীদের একমাত্র ভরসা।
