চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার শোভনকদ্দী এলাকায় নির্মাণাধীন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে সেতুর কাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের ফাটল প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন প্রধান বলেন, “দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এভাবে কাজ শেষ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করুক।”
আরেক বাসিন্দা মেহেদী হাসান মিজি অভিযোগ করে বলেন, “কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেই ঠিকাদার ও পৌরসভার লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। অথচ শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন সেতুর নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্পের ঠিকাদার মো. জহির। তিনি বলেন, “অভিযোগ সঠিক নয়। নির্মাণকাজের মান ঠিক আছে।”
অন্যদিকে, প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে দপ্তরে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।
