ঢাকাশনিবার , ৪ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাজীগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে ফিরে পেতে চায় এক স্বামী

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
জুলাই ৪, ২০২৬ ৩:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাজীগঞ্জে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া, স্বামীর বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্নভাবে স্বামীকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রী তাইফা আক্তারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে এবং এর প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, ইব্রাহিম হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী স্বামী ও তার স্বজনেরা।

ইব্রাহিম হোসেন হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ গ্রামের মুকবুল হোসেনের ছেলে এবং অভিযুক্ত স্ত্রী তাইফা আক্তার কচুয়া উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের আড়া গাজী বেপারী বাড়ির রুহুল আমিনের মেয়ে। এঘটনায় স্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ইব্রাহিম হোসেন এবং তার স্ত্রী ওই নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাইফার আক্তারের বর্তমান অভিভাবক ও তার মামা মুকবুল আহম্মেদ।

ইব্রাহিম হোসেন জানান এবং তিনি লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ১ মার্চ পারিবারিকভাবে তাইফা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। বিবাহের পর থেকে স্ত্রী তাইফা নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করেন, তার ও তার বাবা-মায়ের সাথে খারাপ আচরন করেন এবং পরকীয়া লিপ্ত হন। একপর্যায়ে গতবছর তার স্ত্রী ঘরে থাকা নগদ চার লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে গিয়ে বর্তমানে মামার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, তাইফা বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার পর আমি একাধিকবার তাদের বাড়িতে যাই এবং পারিবারিকভাবে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি, কিন্তু সে ফিরে আসেনি এবং আমার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও ফেরত দেয়নি। উল্টো সে এবং তার আত্মীয়-স্বজন আমার নামে যৌতুকের দাবিসহ নানা মিথ্যা কথা রটায়। তারপরও আমি তার (স্ত্রী) সাথে যোগযোগ রাখার চেষ্টা করছি। কারণ আমি তাকে ভালোবাসি, তাকে ফিরে পেতে চাই।

ইব্রাহিম হোসেন আরো বলেন, সবশেষ গত ২৯ মে, ২০২৬ইং আমার স্ত্রী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আমাকে তালাকনামা পাঠায়। এরপর আমি তার সাথে যোগাযোগ করি। প্রথমে সে অস্বীকার যায়। পরে আবার বলে, আমি কেন তালাকের নোটিশ রিসিভ (গ্রহণ) করেছি। এভাবে বিভ্রান্তিমূলক কথা-বার্তা বলে এবং তার স্বজনেরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি’সহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। আমি এর প্রতিকার চাই।

এবিষয়ে অভিযুক্ত তাইফা আক্তারের বক্তব্য নেওয়ার লক্ষ্যে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু নম্বরটি বন্ধ পাওয়া তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্বামীর পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা মারা যাওয়ার কারণে মামার বাড়িতে বড় হন এবং মামাই তাকে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ দেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বয়স না হওয়ায় পরে কাবিন করা হবে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, তার স্বামী যৌতুক দাবি করেন এবং যৌতুক দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। এরপর তিনি মামার বাড়িতে চলে আসেন এবং মামার বাড়িতে আসার পর তার স্বামীর পক্ষ থেকে কোন খোঁজ-খবর নেওয়া হয়নি এবং ভরন পোষণ দেওয়া হয়নি।

এদিকে মুঠোফোনে কথা হয়, তাইফার মামা মুকবুল আহম্মদের সাথে। তিনি বলেন, আমার ভাগনিকে তার স্বামী ঠিকমতো ভরন পোষণ দেয়না এবং খোঁজ-খবর নেয়না। গত একবছর যাবৎ সে আমাদের বাড়িতে রয়েছে। আমরাই তার দেখাশুনা করছি। তাই, আমার ভাগনি তাকে তালাক দিয়েছে। এখন যে যার মতো করে আছে। তারপরও সে যদি আমার ভাগনিকে হয়রানি করে, তাহলে তার (ইব্রাহিম হোসেন) বিরুদ্ধে মামলা দিবো।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।