রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবার আপন বড় ভাই সাফায়েত হোসেন ও তার সন্ত্রাস বাহিনী কর্তৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় এবং তাদের হুমকীতে পরিবারের স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের পতিচৌঁ গ্রামে।
এই বিষয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধার স্ত্রী শামীমা আক্তার বাদি হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী রেমিট্যান্স যোদ্ধার স্ত্রী শামীমা আক্তার জানান, আমার প্রবাসী স্বামী বেলায়েত হোসেন তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি পতিচৌঁ মৌজার খতিয়ান নং-১৫৯, দাগ নং-৬৮ এর অন্দরে থাকা ২৮ শতাংশ সম্পত্তি হেবামূলে আমাকে হস্তান্তর করে। পরে আমি আমার নামে নামজারি খতিয়ান সৃজন করি। আমার খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তির উপরে দোচালা একটি টিন সেড ঘর নির্মাণ করি।
গত ৬ জুন বিবাদি আমার জ্যা আয়েশা আক্তার, জ্যায়ের বড় ভাই তাজুল ইসলাম, বোন হাজেরা, হাজেরার স্বামী বিল্লাল হোসেন, তার ছেলে রায়হানসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে সম্পত্তি দখলের উদেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসে।
আমার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে প্রাণে রক্ষা পাই। ওই সময় বিবাদীরা আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে। আমি কিংবা আমার পরিবারের কোন সদস্য ভবিষ্যতে উক্ত বিষয় নিয়ে বারাবারি করিলে অথবা কোন মামলা মোকদ্দমা করিলে আমাকেসহ আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। বর্তমানে আমার স্বামী প্রবাসে অবস্থান করায় আমি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তাদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।
অপরদিকে দলিল লেখক সাইফুল ইসলাম জানান, সম্পত্তি বায়না থেকে রেজিষ্ট্রি পর্যন্ত আমার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে সম্পত্তি বেলায়েত হোসেনের ক্রয় করার কথা থাকলেও সম্পূর্ণ টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় আপন ভাই সাফায়েতকে সাথে নিয়ে সম্পত্তি রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
তখন দুই ভাইয়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার মাধ্যমে একই দলিলে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। সাফায়েত সম্প্রতি ওই সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ায় বর্তমান সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আমরা জানতাম সম্পত্তি ক্রয় করেছে বেলায়েত হোসেন। সম্প্রতি সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তা জানতে পারি দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তিগত বিরোধ।
এবিষয়ে প্রতিপক্ষ আয়েশা আক্তারের মুঠোফোন ০১৮৫….৪১ নাম্বারে ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
