ঢাকাশুক্রবার , ৫ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহরাস্তিতে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধের লালসার শিকার ১২ বছরের শিশু ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

Chandpur Tribune
জুন ৫, ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নরহ পশ্চিম পাড়ায় (সর্দার বাড়ি) এক নির্মম ও রোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই বাড়ির ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ নাসির উদ্দীনের লালসার শিকার হয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী এখন ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কল্পনা আক্তার (১২) নরহ পশ্চিম পাড়ার নূরে আলমের মেঝো মেয়ে। সে স্থানীয় পীর শাহ শরীফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। নূরে আলমের ৩ মেয়ের মধ্যে কল্পনা দ্বিতীয়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত নাসির উদ্দীন (৬০) ওই বাড়ির মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন নাসির উদ্দীন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে জানা যায়, ১২ বছরের ওই অবুঝ শিশুটি বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের দ্বারা পঞ্চম শ্রেণীর এক শিশুর এমন সর্বনাশ করার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা নূরে আলম বলেন, আমার মেয়েটা এখনো দুনিয়া ভালো করে বোঝেই না। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। একই বাড়ির দাদু সম্পর্কের নাসির উদ্দীন আমার মেয়ের জীবনটা এভাবে ধ্বংস করে দেবে তা কখনো ভাবিনি। সে আমার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিল। আমি দিনমজুর মানুষ, আমি এই প্রভাবশালী ও পাশবিক নির্যাতনকারীর কঠিন বিচার চাই। আমার মেয়ের সাথে যে অন্যায় হয়েছে, আমি তার ফাঁসি চাই।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল জানান, এটি অত্যন্ত জঘন্য এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। ৬০ বছরের একজন বৃদ্ধের কাছ থেকে ১০-১২ বছরের শিশু নিরাপদ নয়, এটা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। আমরা এলাকায় কোনো ধরনের আপস-মীমাংসা বা সালিশি মেনে নেব না। এই অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন দুঃসাহস না পায়।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, আমরা বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই অপরাধের সাথে জড়িত অভিযুক্ত নাসির উদ্দীনকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আইনের চোখে অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এলাকা জুড়ে এখন একটাই দাবি ধর্ষক নাসির উদ্দীনের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।