আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা এক বুক স্বপ্ন নিয়ে কোরবানির পশু নিয়ে ছুটে এসেছেন বিভাগীয় শহরের হাটগুলোতে। কিন্তু টানা অতিবৃষ্টি সেই স্বপ্নে যেন ভাটা ফেলেছে। বৃষ্টির কারণে হাটের পরিবেশ কাদাময় ও অস্বস্তিকর হয়ে পড়ায় পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক খামারি।
খামারিদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ভেজা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলে পশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দামে পশু বিক্রি না হওয়ার শঙ্কাও বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম ও বিনিয়োগের পর যদি ন্যায্য মূল্য না পাওয়া যায়, তবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের একাংশ মনে করছেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় পশুর দাম কিছুটা কমতে পারে। তাই তারা অপেক্ষায় রয়েছেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের পশু কেনার জন্য। ফলে একদিকে খামারিদের প্রত্যাশা বেশি দামে বিক্রি, অন্যদিকে ক্রেতাদের প্রত্যাশা কম দামে কেনা—দুই পক্ষের এই ভিন্ন চাওয়া বাজারে তৈরি করেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা।
তবে সব হিসাব-নিকাশ, লাভ-লোকসান আর প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে রয়েছে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা। কোরবানি শুধুমাত্র পশু জবাই নয়; এটি ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান ইবাদত। তাই প্রতিকূল আবহাওয়া, বাজারের অনিশ্চয়তা কিংবা আর্থিক চাপের মধ্যেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নামে কোরবানি আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে অতিবৃষ্টি কোরবানির পশুর হাটে কিছুটা সংকট ও উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও সবার প্রত্যাশা—পরিস্থিতির উন্নতি হবে, খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ক্রেতারাও তাদের সাধ্যের মধ্যে কোরবানির পশু কিনতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত কোরবানির মূল বার্তা হবে ত্যাগ, মানবতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ।
