চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১১ নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের গৌড়েশ্বর সালেহ নূরানী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের অভিযোগের কোনো সত্যতা পুলিশি তদন্তে পাওয়া যায়নি।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়,এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবু বক্করকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি,ইমাম সাহেবের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মাদরাসা কমিটির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি,মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি।
স্থানীয়দের মতে,বিষয়টি নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও আলোচনা তৈরি হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তারা মাদরাসার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নান বলেন,“গৌড়েশ্বর সালেহ নূরানী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে একটি অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা তদন্ত করি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আইনগতভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচারকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়,সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর বলেন,“আমাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ গুজব। কিছু ব্যক্তি আমাকে অপমান করার পাশাপাশি আমার মাধ্যমে মাদরাসাটি বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। অনেক আগে থেকেই ইমান,শরীফ,শাহাদাত,ইব্রাহিম,ইসমাঈল,কামাল কবিরাজসহ আরও কয়েকজন মাদরাসাটি বন্ধ করার চেষ্টা করে আসছিল। তারা আমার মাধ্যমে সেই কাজটি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল।
যারা এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে,আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মাদরাসার সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন,“গৌড়েশ্বর সালেহ নূরানী মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে কেউ যেন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
