দেশের বৃহৎ মৎস্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর বড় স্ট্যাশন মাছঘাটে এখন যেন ভিন্ন এক চিত্র। যেখানে দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে রুপালি ইলিশে ঘাট ভরে ওঠার কথা, সেখানে প্রতিদিন আসছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মণ ইলিশ।
ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মাছঘাটে নেই আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য, নেই জেলে-বিক্রেতাদের হাঁকডাকও।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে এই ঘাটে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ মণ ইলিশ সরবরাহ হতো।
কিন্তু বর্তমানে আশানুরূপ ইলিশের দেখা না মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই দেখা দিয়েছে হতাশা। একসময় “ইলিশের বাড়ি” হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ঘাট এখন অনেকটাই ফাঁকা।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়।
জুন-জুলাই সাধারণত ইলিশের ভরা মৌসুম হিসেবে পরিচিত হলেও, চলতি সময়ে নদীতে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না।
ট্রলার নিয়ে নদীতে গেলেও অনেক জেলে ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞায় ঋণের বোঝা কাঁধে নেওয়া জেলেরা।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবে বরাত জানান, ইলিশের এই সংকট আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। অন্তত আগামী এক মাস ঘাটে এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
ইলিশের সরবরাহ না বাড়লে শুধু বাজার নয়, বিপাকে পড়বেন হাজারো জেলে পরিবারও। কারণ কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেলে নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে ঋণমুক্ত হওয়া তাদের জন্য হয়ে উঠবে আরও কঠিন।
