ফেসবুকে গড়ে ওঠা প্রণয় পরিণয়ে রূপ দিতে নিজের ধর্ম ও পরিবার ত্যাগ করে খাগড়াছড়িতে পাড়ি জমিয়েছেন চাঁদপুরের এক তরুণী। দুই সন্তানের জনক এক পাহাড়ি যুবকের প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে তিনি এখন বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে সংসার পেতেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তরুণীর নিজ এলাকা চাঁদপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালিয়া এলাকার বেপারী বাড়ির মিজান বেপারীর মেয়ে নুরুন্নাহার (২৫)-এর সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা লাভেআং মারমার। লাভেআং মারমা পেশায় শ্রমিক এবং ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক। দীর্ঘদিনের অনলাইন আলাপচারিতা এক পর্যায়ে গভীর প্রেমে রূপ নেয়।
প্রেমের টানে চলতি মাসেই নুরুন্নাহার চাঁদপুর থেকে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে লাভেআং মারমার কাছে চলে যান। গত ২০ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নোটারী পাবলিক) কার্যালয়ে এক হলফনামার মাধ্যমে নুরুন্নাহার ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্ম পরিবর্তনের পর তার নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘মাসানু মারমা’। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী এরপর তিনি লাভেআং মারমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এদিকে নুরুন্নাহারের এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একজন দুই সন্তানের জনকের কাছে চলে যাওয়া এবং ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টিকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন এলাকার নেটিজেন ও মুরব্বিরা।
নুরুন্নাহারের পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হলেও, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে আইনিভাবে তাদের তেমন কিছু করার থাকছে না বলে অনেকে মনে করছেন। অন্যদিকে, খাগড়াছড়িতে নতুন দম্পতি বর্তমানে একসাথে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পারিবারিক মূল্যবোধ ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার নিয়ে সচেতন মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
