সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে ৩০৮ জনকে কবরস্থ করেছেন চাঁদপুরের বিল্লাল হোসেন খান। খবর পেলেই ছুটে যান এবং কবর খুঁড়ে নিজের মনে আত্মতৃপ্তি পান ৬৬ বছরের এই মানুষটি। ১৬ বছর বয়স থেকেই তিনি এ কাজ শুরু করেন।
বিল্লাল হোসেন খান জানান, টিপরাদের সঙ্গে আমি জাদু বান টোনার কাজ করতাম। এক দিন হাজীগঞ্জের বড় মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাই। তখন সেজদা দিতে পারছিলাম না। তখন মসজিদের তৎকালীন ইমাম আমাকে বিনা পয়সায় কবর খোঁড়ার পরামর্শ দেন। আর সেই থেকেই এ কাজ শুরু করি। ডায়েরিতে লিখে হিসাব রাখতাম এ পর্যন্ত কতটি কবর খুঁড়লাম আমি। যদিও এখন ডায়েরিটা আগুনে পুড়ে গেছে।
বিল্লাল হোসেন খান চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের বাহের খলিশাডুলী এলাকার ইদ্রিস খানের ছেলে। তিনি ১৯৬০ সালের ৯ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে তিনি জীবন কাটাচ্ছেন।
বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে বয়সের ভারে এখন আর কবর খুঁড়তে পারছি না। তবে মানুষ ডাকলে এখনো ছুটে যাই। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতাম। কিন্তু সেখান থেকেও আমি অবসর নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, কবর খুঁড়তে গিয়ে অনেক অলৌকিক ঘটনার আমি সাক্ষী হয়েছি। আমার জীবনে কবর খুঁড়তে গিয়ে কোনো মাপ লাগে না। চোখের দৃষ্টিতেই বুজি কবরটা আমাকে কিভাবে খুঁড়তে হবে। মানুষ আমাকে এ কাজে দোয়া করে এটাই আমার জীবনে চলার পথের শক্তি।
বিল্লাল হোসেন তার ইচ্ছা সম্পর্কে বলেন, আমার এ কাজে কোনোভাবে কোনো স্বীকৃতি পেলে মনে আনন্দ পেতাম। এখন নামাজ পড়ি আর কোনোভাবেই অভাব অনটনের মাঝেও সংসার চালাচ্ছি।
