চাঁদপুরে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছরের শিশুকে ফুসলিয়ে লঞ্চের কেবিনে নিয়ে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নাসির উল্লাহ বাহাদুর (২৩)। তিনি রঘুনাথপুর এলাকার নিয়ামত উল্লাহ বেপারীর ছেলে এবং ভিকটিমের প্রাক্তন শিক্ষক।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন পুরান বাজার সংলগ্ন রনাগোয়াল এলাকায় শিশুটি ঘুরতে বের হলে অভিযুক্ত নাসির উল্লাহ তাকে নতুন মাদরাসা দেখানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর সুকৌশলে তাকে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে নিয়ে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে তুলে নেয়।
লঞ্চে শিশুটিকে খাবার খাইয়ে একটি কেবিনে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর একটি হোটেলে নিয়ে শিশুটিকে গোসল করিয়ে এবং তার কাপড় ধুয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করে অভিযুক্ত শিক্ষক। চাঁদপুর ফেরার পথে শিশুটিকে লঞ্চে একা রেখে কৌশলে পালিয়ে যায় নাসির উল্লাহ।
লঞ্চের যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর শিশুটি একা কান্নাকাটি করতে থাকলে স্থানীয়রা তাকে অটোরিকশায় তুলে দেয়। বাড়ি ফিরে শিশুটি তার পরিবারের কাছে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে। উল্লেখ্য, শিশুটির বাবা নিরুদ্দেশ এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় নানী খাতিজা বেগমের কাছেই সে লালন-পালন হচ্ছিল।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের চেষ্টা করা হয়। গত ২৯ মার্চ (রোববার) অভিযুক্তের পরিবার ভিকটিমের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও নানী খাতিজা বেগম তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ওই রাতেই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। সামাজিক বিচারের অপেক্ষায় থাকায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। এজাহার প্রাপ্তির পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
