চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বাবুরহাট বাজার এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আবেদন জানিয়েছেন বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীবৃন্দ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর পৌরসভা প্রশাসকের নিকট দেওয়া লিখিত আবেদনে এ দাবি জানান বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
আবেদনে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী দোকানের সম্মুখবর্তী ফুটপাত ও সড়কের অংশ অবৈধভাবে দখল করে সেখানে অস্থায়ী চটি ও স্টল বসিয়ে ভাড়া আদায় করছে। ফলে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির এযাবৎকালের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভেস্তে যাচ্ছে এবং কোনো প্রতিকার মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈধ ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে পৌরসভার নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি পরিশোধ করে আইনানুগভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেও দখলদারদের কর্মকাণ্ডে বাজার এলাকার ফুটপাত ও চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সড়ক আছে, কিন্তু চলাচলের অনুপযোগী। রাস্তা দখল করে দোকান বসিয়ে মানুষের চলাচলে এভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, জেলা পরিষদের লিজ দেখিয়ে মসজিদ কমিটি বাজারের একটি অংশের দোকান থেকে মাসে দুই হাজার টাকা করে আদায় করছে। এছাড়া বাজারসংলগ্ন খালের ওপর থাকা কালভার্টের উপরেও দোকান বসানো হয়েছে, যা সড়কের চলাচল আরও সংকুচিত করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব দোকান স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন।
বিষয়টি সম্পর্কে বাবুরহাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, এখানে একটি কনসোর্টিয়াম রয়েছে, তারাই মূলত এগুলোর বিষয়ে ভালো বলতে পারবে। তবে জেলা পরিষদের যেহেতু আপাতত লিজ বন্ধ রয়েছে, তাই কোনো কাজ এখানে হওয়ার কথা ছিল না। এ বিষয়ে আপনি জেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মাল বলেন, বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দোকানের সামনে চটি বসানোর কারণে মানুষের চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব চটি সরানোর জন্য চেষ্টা করেও বারবার আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা চটিগুলো সরিয়ে দেওয়ার পর পুনরায় সেগুলো বসানো হয়। এমতাবস্থায় আমরা পৌর প্রশাসক মহোদয়ের নিকট লিখিত আবেদন দিয়েছি, যাতে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, বাবুরহাট বাজারের বিষয়টি আমরা অবগত। অভিযোগের বিষয়ে শিগগির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
