চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত একাধিক গরু চুরির ঘটনার সঙ্গে এক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে ‘কসাই লিটন’ নামে পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কসাই লিটনের বাড়ি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনিমূড়া গ্রামের হরিচান্দের বাড়িতে। তিনি ওই এলাকার মৃত আ. মান্নানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লিটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হাজীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু চুরি করে এনে স্থানীয়ভাবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, ২০২২ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলার ১১নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের পাতানিশ দক্ষিণ পাড়া এলাকায় হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের পশ্চিম পাশে মো. নানু মিয়া পাটোয়ারীর বসতঘরের পূর্ব পাশের একটি খোলা মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। ওই সময় একটি চুরি করা গরু ও একটি পিকআপ গাড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কসাই লিটন কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন।
ওই মামলায় আরও যাদের আটক করা হয়, তাঁরা হলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর সদর ইউনিয়নের সুদিয়া গ্রামের হাজী বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. খাজা মহিউদ্দিন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মফিজউদ্দিন বেপারী বাড়ির মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. আক্তার হোসেন শান্ত, হাজীগঞ্জ উপজেলার ওঁড়পুর গ্রামের নোয়াপাড়া ভূঁইয়া বাড়ির মৃত ইব্রাহিম ভূঁইয়ার ছেলে মো. এরশাদ ভূঁইয়া, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার রফিকপুর গ্রামের বাইন্না বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন এবং কোম্পানিগঞ্জ থানার চরপাবর্তী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমজাত স্যারের বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইলিয়াস।
পুলিশ জানায়, ৩ নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির রিপন মজুমদার ডেইরি ফার্ম থেকে চুরি হওয়া গরু উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে আটক করার পর কসাই লিটনের নাম উঠে আসে। একই সঙ্গে খাজা ও জুলহাস নামের আরও দুজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে কসাই লিটন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে জামিনে মুক্ত থাকার পরও গরু চুরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের কাছে নতুন তথ্য আসছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গরু চুরির ঘটনায় এলাকার কৃষক ও খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এতে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আ. জব্বার বলেন, ‘গরু চুরির বিষয়ে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
