ঢাকাশনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মালদ্বীপে কারাবন্দিদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও বন্দি স্থানান্তর চুক্তি বাস্তবায়ের উদ্যোগ

Chandpur Tribune
জুলাই ১১, ২০২৬ ৪:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ, অধিকার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপের মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে কারাগারে আটক মোট ৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয় এবং তাদের সার্বিক অবস্থা, সমস্যা, অভিযোগ ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়।

শুক্রবার ( ১০ জুলাই) কারাগারে পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রত্যেক বন্দির সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন এবং তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন। বর্তমানে আটক বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৩৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১০ জন বিচারাধীন রয়েছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন নিয়মিতভাবে মালদ্বীপের কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টারসমূহ পরিদর্শন করে থাকে। এবারের পরিদর্শনেও বন্দিদের চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পোশাক, আবাসন, স্বাস্থ্যবিধি এবং সামগ্রিক কারা-পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বন্দিদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয় এবং তাদের প্রাপ্য সুবিধাসমূহ দ্রুত ও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি, তিনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও মানবিক বিবেচনার আওতার অন্তর্ভুক্ত। কারাগারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের মানবিক মর্যাদা, মৌলিক অধিকার এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ হাইকমিশনের দায়িত্বের অংশ। আমরা তাদের কথা শুনতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে এবং আইনি ও মানবিক সহায়তার সুযোগগুলো নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে যে, একজন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব কখনো শেষ হয়ে যায় না। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মালদ্বীপে আটক বাংলাদেশি বন্দিদের বিষয়েও আমরা নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখছি।

হাইকমিশনার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি স্থানান্তর সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি শিগগিরই কার্যকর হবে, যা উভয় দেশের কারাগারে আটক বন্দিদের মানবিক বিবেচনায় নিজ নিজ দেশে স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন:
“বন্দি স্থানান্তর চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা হবে দুই দেশের মানবিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি বন্দিরা নিজ দেশে থেকে পরিবার-পরিজনের নিকটবর্তী পরিবেশে সাজা ভোগের সুযোগ পাবে, যা তাদের পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

হাইকমিশনার এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উল্লেখ্য, পরিদর্শনকারী প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্যাহ, কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান এবং মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশন পুনর্ব্যক্ত করছে যে, মালদ্বীপে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিকের কল্যাণ, অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাইকমিশন ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।