ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে উঠে এসেছে এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রজন্ম–পরিবর্তনের চিত্র একদিকে সবচেয়ে কম বয়সী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, অন্যদিকে প্রবীণ রাজনীতিকদের অভিজ্ঞ উপস্থিতি।
সবচেয়ে কম বয়সে এমপি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, তার জন্ম ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি। বর্তমানে তার বয়স ২৬ বছর ১ মাস।
এবারের নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নেন এবং নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া হান্নান মাসউদ পরবর্তীতে এনসিপিতে যোগ দেন এবং ১১–দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।
অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি বয়সী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। হলফনামা অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর; বর্তমান বয়স ৭৯ বছর ৪ মাস। তিনি কুমিল্লা–১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৮৪৫ ভোট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন খন্দকার মোশাররফ। সে সময় তিনি ৯৬ হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন।
এই নির্বাচনে একদিকে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান, অন্যদিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রত্যাবর্তন দুটি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব একই সংসদে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
