বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হলো আন্তর্জাতিক ভলিবলে। প্রথমবারের মতো সেন্ট্রাল এশিয়া ভলিবল অ্যাসোসিয়েশন (CAVA) আয়োজিত উইমেন্স CAVA কাপ-২০২৫ এ অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ভলিবল দল।
উইমেন্স CAVA কাপ ২০২৫-এ অংশগ্রহণ উপলক্ষে টিম ম্যানেজার মো. আমিরুল হোসাইনের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয় নারী ভলিবল দলের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে মালদ্বীপে অবস্থান করছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। সেন্ট্রাল এশিয়া ভলিবল অ্যাসোসিয়েশন (CAVA) আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক নারী ভলিবল টুর্নামেন্টটি চলবে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) মালদ্বীপে এক জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে উইমেন্স CAVA কাপ। এবছর এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে স্বাগতিক মালদ্বীপসহ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও কিরগিজস্তানের জাতীয় নারী ভলিবল দল। নারীদের ক্রীড়া উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে এই প্রতিযোগিতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের ক্রীড়া, ফিটনেস এবং বিনোদন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল রাজাক ইব্রাহিম ও স্পোর্টস কমিশনার মোহাম্মদ থোলাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন CAVA-এর সভাপতি এবং মালদ্বীপ ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহামেদ লতীফসহ CAVA সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে স্পোর্টস কমিশনার মোহাম্মদ থোলাল আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন। উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ভলিবল দল স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়ন ও যুব উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়া সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।
উদ্বোধণী অনুষ্ঠান শুরুর আগে হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয় নারী ভলিবল দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি খেলোয়াড়দের মনোবল বৃদ্ধির জন্য উৎসাহমূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ভলিবল দলের এই আন্তর্জাতিক যাত্রা দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
