মালদ্বীপের রাজধানীতে অবস্থিত মিয়ান্জ কলেজের কনভোকেশন ২০২৫-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মালদ্বীপে নিযুক্ত হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. আব্দুল রঈহান হাসান।
শুক্রবার ( ২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই কনভোকেশন অনুষ্ঠানে নতুন স্নাতকদের সাফল্য উদ্যাপন করতে একত্রিত হন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিবারবর্গ এবং শিক্ষাঙ্গনের সদস্যরা। শিক্ষা, মূল্যবোধ ও “পাওয়ার অব বন্ডিং”-এর ওপর হাইকমিশনারের গুরুত্বারোপ, মূল বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম স্নাতকদের শুভেচ্ছা জানান এবং মিয়ান্জ কলেজের অসাধারণ অগ্রগতির প্রশংসা করেন। মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী দিয়ে শুরু করা এই কলেজ ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫,০০০-এর বেশি স্নাতক তৈরি করেছে—যা প্রতিষ্ঠানটির অসামান্য উন্নয়নের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মিয়ান্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ মোত্তাকিকে—যিনি একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা, এবং মালদ্বীপে তাঁর অবদান বাংলাদেশের সফট পাওয়ার, পাওয়ার অব বন্ডিং, এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী জনগণ-থেকে-জনগণের সম্পর্কের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন যে মালদ্বীপের শিক্ষা, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশিদের ইতিবাচক অবদান আজ দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। জনাব মোত্তাকির নেতৃত্বে মিয়ান্জ কলেজ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বাস্তব মডেলে পরিণত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বে শিক্ষা কূটনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
দ্বীপ রাস্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার তাঁর ভাষণে বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক বহুদিনের—যা গড়ে উঠেছে অভিন্ন মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বন্ধন, সামুদ্রিক ইতিহাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে শুধুমাত্র এই বৎসরে প্রায় ১০০ জন মালদ্বীপের মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটের ইন্টার্নশিপ সুবিধা। নিজের গবেষণার আলোকে তিনি সফট পাওয়ার এবং তাঁরই প্রবর্তিত কনসেপ্ট “পাওয়ার অব বন্ডিং” সম্পর্কে আলোচনা করেন—যা বিশ্বাস, মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। তিনি স্নাতকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে তারাই আগামী দিনের জনকূটনীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতিনিধিত্ব করবে। হাইকমিশনার মিয়ান্জ কলেজের বিস্তৃত একাডেমিক কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ব্যবসা শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), শিক্ষা ও আধুনিক বিষয়ে সম্প্রসারিত শিক্ষাক্রম জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। স্নাতকদের উদ্দেশ্যে বার্তা: চরিত্র, সেবা ও দায়িত্ব।
উল্লেখ্য মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড.মো. নাজমুল ইসলাম স্নাতকদের উদ্দেশ্যে বলেন,
* ডিগ্রি সুযোগ সৃষ্টি করে, কিন্তু মূল্যবোধই সাফল্যকে দীর্ঘস্থায়ী করে,
* সত্যিকারের নেতৃত্ব আসে বিনয় থেকে,
* জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয় যখন তা অন্যের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে মিয়ান্জ কলেজের প্রায় ৭৮% স্নাতক বর্তমানে মালদ্বীপের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন, এবং নতুন স্নাতকরাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে তাঁর বিশ্বাস। উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী একাডেমিক সম্প্রীতি বাংলাদেশ হাইকমিশনার ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা, বৃত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, শিক্ষক বিনিময় এবং যুব উন্নয়ন কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা কূটনীতি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করতে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আনন্দমুখর কনভোকেশন অনুষ্ঠানে স্নাতকরা যখন তাদের ডিগ্রি গ্রহণ করেন, তখন পুরো অনুষ্ঠান প্রফুল্লতা ও আনন্দে ভরে ওঠে। হাইকমিশনার স্নাতক, তাঁদের পরিবার ও শিক্ষকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের ভবিষ্যতের সাফল্য, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পথচলার জন্য শুভকামনা জানান।
