আজ বিশ্ব বাবা দিবস। পরিবারের নীরব অভিভাবক, সন্তানের শক্তি ও ভরসার আশ্রয়—বাবাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করার দিন আজ। জীবনের প্রতিটি বাঁকে যিনি ছায়ার মতো পাশে থাকেন, বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়ান এবং নিজের কষ্ট আড়াল করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরলস পরিশ্রম করেন—তিনি বাবা।
বাংলা সংস্কৃতিতে বাবাকে প্রায়ই বটগাছের সঙ্গে তুলনা করা হয়। বটগাছ যেমন বিস্তৃত ছায়ায় আশ্রয় দেয়, তেমনি বাবা সারাজীবন সন্তানের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বপ্ন ও সাফল্যের জন্য নিরবে কাজ করে যান। তাঁর স্নেহ অনেক সময় মুখের কথায় প্রকাশ পায় না; কিন্তু দায়িত্বের প্রতিটি কাজে, শাসনের আড়ালে এবং সন্তানের ছোট-বড় প্রয়োজন পূরণে সেই ভালোবাসা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে মানুষ যতটা সহজে আবেগী হতে পারে, বাবার ক্ষেত্রে তা অনেক সময় বলা হয়ে ওঠে না। অথচ পরিবারের বাইরে পৃথিবীকে চেনার প্রথম হাতটি প্রায়ই বাবারই। তাঁর হাত ধরে সন্তান শেখে পথ চলা, সাহস, সততা, দায়িত্ববোধ এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করা।
বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পরামর্শদাতা এবং নিরাপদ আশ্রয়। সন্তানের হাসির জন্য নিজের ইচ্ছা বিসর্জন দেওয়া, ভবিষ্যতের চিন্তায় রাত জাগা কিংবা কঠিন সময়ে দৃঢ় থাকার নামই বাবা।
বিশ্ব বাবা দিবসে তাই সকল বাবার প্রতি রইল গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। যাঁরা পাশে আছেন, তাঁদের একটি আন্তরিক কথা—“বাবা, তোমাকে ভালোবাসি”—হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হয়ে উঠতে পারে। আর যাঁরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের স্মৃতি থাকুক হৃদয়ের গভীরতম স্থানে।
বাবা মানেই শক্তি, বাবা মানেই ভরসা, বাবা মানেই আজীবনের ভালোবাসা।
