চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই প্রার্থী হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জি: মো. মমিনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর-৫ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিভিল জজ নুরুল্লাহ সিদ্দিকী এই আদেশ প্রদান করেন। নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সমান সুযোগ (Level Playing Field) নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির দেওয়া নোটিশ অনুযায়ী, গত ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি নির্বাচনী এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় তাদের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়: মো. মমিনুল হক নির্বাচনী এলাকায় তার ছবি ও ধানের শীষ প্রতীক সংবলিত ‘মমিনুল হক ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’ লেখা যুক্ত রঙিন প্লাস্টিকের ফেস্টুন বিভিন্ন গাছে টানিয়েছেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে রঙিন পোস্টারও দেখা গেছে, যা আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারী তার ছবি ও হাতপাখা প্রতীক সংবলিত রঙিন পোস্টার বিভিন্ন দেয়ালে ব্যবহার করেছেন। যা তদন্ত কমিটির কাছে আইনত দণ্ডনীয় ও নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী বলে গণ্য হয়েছে।
নোটিশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, কেন এই দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো হবে না তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে চাঁদপুর জেলা জজ আদালত ভবনে অবস্থিত হাজীগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে (কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়) সশরীরে উপস্থিত হয়ে কিংবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির এই নোটিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করতে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন, তবে নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী প্রার্থিতা বাতিল বা জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।
এই শোকজের পর চাঁদপুর-৫ আসনের ভোটার ও অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না এমন বার্তাই ফুটে উঠেছে এই পদক্ষেপে।
