প্রিন্ট তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

তিন বছর ধরে প্রবাসে থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা নেন হাজীগঞ্জের মাদ্রাসা শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫

তিন বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা নিয়মিত নেন। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যটি পাওয়া গেছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলচোঁ কারিমাবাদ ফাজিল মাদরাসার আইসিটি প্রভাষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। গেল তিন বছর ধরে প্রবাসে তিনি। মাঝে মাঝে তিনি দেশে আসেন। মাদরাসায়ও যান। হাজিরা খাতায় খালি থাকা ঘরে একসাথে সব স্বাক্ষর দেন। তবে ক্লাস নেন না। ক্লাস না নিয়ে তুলে নিচ্ছেন বেতন-ভাতা। তার এমন অদৃশ্য প্রভাবে যেন কোণঠাসা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

তার অনুপস্থিতিতে আইসিটি বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে ফলাফল বিপর্যয়। চলতি বছরে আলিমে ৩৩ জনের মধ্যে ৮ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে আইসিটি বিষয়ে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধান ও মাদরাসায় পড়াশোনার মান বৃদ্ধির তাগিদ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলিম শিক্ষার্থীরা বলেন, আলিম প্রথম বর্ষে নতুন ভর্তি হয়েছি। আমাদের এখানে তো আইসিটিতে একজন ম্যাম ক্লাস নেন, আর মেহেদী নামের কোনও স্যারকে চিনি না। আলিম পর্যায়ে আইসিটি তো নেন সিরোতাজ ম্যাডাম। আমরা দুই-তিন মাস ধরে ক্লাস করি। আমরা তো পাচ্ছি না। উনি বাহিরে আছেন। আমরা তো এতটুকুর বেশি জানি না।

মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য দুলাল মিয়া বলেন, আমরা যখন কমিটিতে ছিলাম ৫ আগস্টের আগে তখন বার বার প্রিন্সিপাল এটা কমিটির মিটিংয়ে উপস্থাপন  করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। আমরা প্রিন্সিপালকে অনুরোধ করেছি তাকে অ্যাপসেন্স দেওয়া হোক। কিন্তু বিশ্বস্তসূত্রে জানি- তিনি দেশের বাহিরে আছেন। এরপর আমরা ওখান থেকে চলে আসি।

বেলচোঁ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অহিদুল ইসলাম চৌধুরী মহন বলেন, এখানের শিক্ষকদের সমস্যা আছে। দাখিলের কেন্দ্র হিসেবে শিক্ষার হার অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিতে এসে শতভাগ পাস করে। কিন্তু আমাদের এ প্রতিষ্ঠানে ৫০% ও পাস করে না। এটার জন্য শুধু একমাত্র প্রতিষ্ঠান প্রধানই দায়ী। আইসিটিতে প্রথম প্রথম দেখলাম বেশিরভাগ ফেল। এই ৬ বছরে দুর্নীতির পাহাড় এই প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

প্রভাষক মেহেদী হাসানের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলার শিবপুর গ্রামে। সেখানে গিয়ে কথা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে। তারা জানান, তিন/ বছর ধরে মেহেদী হাসান কুয়েতে আসা-যাওয়া করছেন। কুয়েতে কত বছর থাকেন? প্রভাষক মেহেদী হাসানের ভাবির কাছে জানতে চাইলে বলেন, কুয়েতে উনি যান আবার চলে আসেন। কুয়েতে আসা-যাওয়া করেন তিন-চার বছর হবে।

তবে মে মাস থেকে প্রভাষক মেহেদী হাসান অনুপস্থিত ও বেতন বন্ধ। এর আগে তিনি মাদরাসায় যেতেন, ক্লাস নিতেন খণ্ডকালীন আরেক শিক্ষক- এমন দায়সারা বক্তব্য দেন বেলচোঁ কারিমাবাদ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, মেহেদী হাসান গত মে মাসে ১৭ তারিখ থেকে এই মাদরাসায় বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত। আমরা অনেক খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি উনি দেশে নাই- দেশের বাহিরে আছেন। তিনি প্রোপারলি ছুটি নিয়ে যাননি। তারপর তদন্ত কমিটির তিনটা নোটিশ উনার বাড়িতে পৌঁছানো হয়। আইনগত ব্যবস্থা এতটুকু নেওয়া হইছে। সম্ভবত মে মাস পর্যন্ত বেতন নিয়েছেন।

বেলচোঁ কারিমাবাদ ফাজিল মাদরাসার সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এমরামুল ছিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে আমি দুই মাস আগেই একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কমিটির তদন্ত রিপোর্টটা এখনও হাতে পাইনি। পাওয়া মাত্রই বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেব।

এদিকে প্রভাষক মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগ ও ম্যাসেজ করেও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে বেলচোঁ কারিমাবাদ আলিম মাদরাসায় যোগদান করেন। এমন অনিয়মের খবরটি পাওয়া গেছে।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন