জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৃহত্তর সুন্নি জোট।
আগামী ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে জনসভা দিয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা আসে।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসেনি, রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্থিতিশীল হয়নি। বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিল্পখাত সংকটে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, ডলার সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা বলেন, গত দেড় দশকের জাতীয় নির্বাচনগুলো জনমনে আস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগও তারা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স.উ.ম. আবদুস সামাদ সুন্নি জোটের ১৩ দফা উপস্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো— ঘোষিত সময় অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট, রাষ্ট্রীয় বৈঠকে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা,নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান,দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, অর্থ পাচারকারী ও দণ্ডিতদের নির্বাচন অযোগ্য ঘোষণা, জুলাই মাসের হত্যাকাণ্ডের বিচার,পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা,চট্টগ্রাম বন্দরের মুনাফাযোগ্য টার্মিনাল বিদেশি নিয়ন্ত্রণে না দেওয়া, আরাকান আর্মিকে কোনো ধরনের করিডোর বা সহায়তা না দেওয়া,মাজার, খানকা, দরবার শরিফ ও ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা,গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালীন প্রশাসন পুনর্গঠন।
এই দাবিগুলোর ধারাবাহিকতায় মাঠপর্যায়ে কয়েকটি কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে জনসভা, ২৯ নভেম্বর কুমিল্লায়, ৩০ নভেম্বর হবিগঞ্জে, ৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে এবং ২০ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম. ইবরাহীম আখতারী, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা আশেকুর রহমান হাশেমী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, আল্লামা মোশাররফ হোসেন হেলালী, অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসান, ঢালি কামরুজ্জামান হারুন, ডা. অধ্যক্ষ এস. এম. সরওয়ারসহ আরও অনেকে।