প্রিন্ট তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

চাঁদপুর-ঢাকা নৌরুটে দ্রুতগামী নৌযান চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৫

চাঁদপুর-ঢাকা নৌরুটে দ্রুতগামী ও আধুনিক নৌযান চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে রুটটিতে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর সেবার মান নিম্নমানের থাকায় যাত্রী সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে আধুনিক ও দ্রুতগতিসম্পন্ন নৌযান চালু করার দাবি দিন দিন জোরদার হচ্ছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জেলাবাসীর পক্ষে ১৬ অক্টোবর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, এক সময় ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত ছিল চাঁদপুর নৌবন্দর। কিন্তু তিন নদীর মোহনা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া এবং ডাকাতিয়া নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পরবর্তীতে শহরের নিশি বিল্ডিং এলাকায় স্থানান্তর করা হয় বন্দরের কার্যক্রম। সেখানে এখন গড়ে উঠছে আধুনিক নৌবন্দর। যাত্রীরা মনে করেন, বন্দর আধুনিক হলেও রুটে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে আধুনিক ও দ্রুতগামী না করা পর্যন্ত যাত্রীসেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।

চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দেলোয়ার আহমেদ বলেন, এই রুটের লঞ্চগুলোতে উন্নতি হয়নি। তাদের মতো করে পরিচালনা করে। তারা শীত এবং গরম মৌসুমে এসির ভাড়া একই রকম নেয়। কিন্তু সেবার মান বৃদ্ধি হয়নি।

 

চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, একটা সময় মানুষ বেশি লঞ্চে যাতায়াত করতো কিন্তু বর্তমানে সময় বেশি লাগায় সড়ক প্রতি মানুষ যাতায়াত করছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সময়ের সাথে সাথে এখানে যাতে দ্রুতগতির একটি লঞ্চ চালু করা হয়। তাহলে মানুষ কম সময়ে যেতে পারবে, আবার কাজ সেরে দ্রুত চলে আসতে পারবে।

চাঁদপুর শহরের ট্রাক রোড এলাকার শিক্ষক হাফেজ জাকির হোসেন বলেন, লঞ্চগুলোর যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অব্যবস্থাপনা থাকায় লঞ্চের যাত্রীরা মুখ ফিরিয়ে দিচ্ছে। এখন নতুন করে আধুনিক নৌ বন্দর নির্মাণ এবং দ্রুতগামী নৌযান বাস্তবায়ন হলে মানুষ আবারো এই রুটে যাতায়াত করা শুরু করবে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, ঢাকা থেকে বরিশাল বিভাগের সকল জেলা এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের লঞ্চ, কার্গো ও জাহাজ চলাচলের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চাঁদপুর নদী বন্দর ব্যবহৃত হয়। চাঁদপুর শহর পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত হওয়ায় এবং ইলিশের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় ভ্রমন পিপাসু মানুষের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে। জনসাধারণ নৌ পথে চাঁদপুর-ঢাকা যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

বর্তমানে নদীপথে চাঁদপুর-ঢাকা যাতায়াতে সাড়ে ৩ঘন্টা থেকে ৪ঘন্টা সময় লাগে। অপরদিকে সড়কপথে যাতায়াতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ধীরগতির পুরোনো লঞ্চ সড়কপথের তুলনায় নদীপথে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় জনসাধারণ নদীপথে যাতায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নদীপথে যাতায়াত তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল, আরামদায়ক ও নিরাপদ। নদীপথের যাতায়াত স্বল্পসময়ে সম্পন্ন করার জন্য দ্রুতগতির লঞ্চ চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে বর্তমানে যে সকল লঞ্চ ৩ ঘণ্টায় চাঁদপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছায় ওইসব লঞ্চ আড়াই ঘণ্টায়ও পৌঁছানো সম্ভব।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, চাঁদপুর-ঢাকা নৌরুট সচল রাখার জন্য আমি মনে করি আধুনিক এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন লঞ্চ চালুর উদ্যোগ, লঞ্চসমূহ সংস্কার, সেবার মান বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আড়াই ঘণ্টার মধ্যে চাঁদপুর-ঢাকা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সড়কের ওপরে চাম কমাতে হলে জনপ্রিয় এই নৌরুটের সেবার মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, অন্যথায় ভবিষ্যতে যাত্রীর অপ্রতুলতায় লঞ্চ সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

 

 

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন