নতুন এ দলটিকে এখনো নির্বাচনের মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই থাকেন নির্বাচনী এলাকার বাইরে।
বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে তারা আসেন এলাকায়।
সম্প্রতি নির্বাচনী তফসিলের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পর নেতাদের আগমন বেড়েছে নির্বাচনী এলাকায়।
সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা এবং আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন নেতারা।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এ আসনের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় পুরুষ ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৫১ হাজার ৯০৬, নারী ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭০ হাজার ২০১ জন। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২২ হাজার ১০৭ জন। হিজড়া ভোটার দুইজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আসনে ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। এবারও তিনি দলের থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদাও রয়েছেন মাঠ পর্যায়ের প্রচারণায়। বিএনপি থেকে এই দুইজন ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহা-সচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি ডা. সরকার মাহমুদ আহমেদ শামীম ও বাংলাদেশ কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত একমাত্র প্রার্থী হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মুবিন এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমেদ সাকী। এছাড়া এনসিপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে প্রচারণায় আসেনি।
বিএনপি নেতা ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক না, আমি দলের জন্মলগ্ন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। বর্তমানে দলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। আমার স্বপ্ন নির্বাচিত হলে মতলবের সঙ্গে জেলা ও ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবো।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তানভীর হুদা বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নির্বাচন। শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, সব সময় আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করার চেষ্টা করছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তার কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু বলেন, আমি আগে এই আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।
জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুল মবিন বলেন, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় আমি নিয়মিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার ডাকে এগিয়ে আসার আহ্বান করছি। আমার বিশ্বাস ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তাদের সমর্থন দেবেন।
ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মানসুর আহমেদ সাকি বলেন, এই মনোনয়ন আমার জন্য শুধু সম্মানই নয়, বরং জনগণের সেবা করার এক বিশাল আমানত। নির্বাচনে আমি শুধু একটি প্রতীক নয়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়ে দাঁড়াতে চাই।
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল এবং সর্বশেষ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এসব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারা এখন পলাতক রয়েছেন।