বাঁশ দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁশ নিয়ে ব্যাপক পোস্ট দেখা গেছে। বেশিরভাগই মজা করে পোস্ট করেছেন। অনেকে বাঁশের সঙ্গে নিজের বা বন্ধুর ছবি পোস্ট করছেন। তাতে খুনসুটি করে ক্যাপশনও দিয়েছেন অনেকে।
এবারের বাঁশ দিবস ২০২৫-এর থিম নির্ধারিত হয়েছে ‘নেক্সট জেনারেশন ব্যাম্বো: সলিউশন, ইনোভেশন অ্যান্ড ডিজাইন’। মূলত আধুনিক স্থাপত্য, টেকসই পণ্য নকশা ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে বাঁশের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা, টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শিল্পের জন্য বাঁশ চাষে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখাই এর উদ্দেশ্য। এর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নও এর অন্যতম লক্ষ্য।
দিবসটি যেভাবে চালু হলো
২০০৯ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু কংগ্রেসের’ অষ্টম আসর বসেছিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সেখানেই ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও) দাপ্তরিকভাবে দিবসটির সূচনা করে। তখন থেকে এ দিবস বিশ্বের নানা দেশে পালিত হচ্ছে।
দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের কদর আজও অটুট। বাঁশ মূলত একটি চিরহরিৎ উদ্ভিদ। ঘাস জাতের এই উদ্ভিদ নির্মাণসামগ্রী হিসেবে জনপ্রিয়, কুটিরশিল্প এবং বাদ্যযন্ত্র তৈরিতেও অতুল উপকরণ। বাঁশ গাছ সাধারণত একত্রে গুচ্ছ হিসেবে জন্মায়। এসব গুচ্ছকে বাঁশ ঝাড় বলা হয়। প্রায় ১৫০ ধরনের বাঁশ হয়ে থাকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু আসবাব কিংবা গৃহস্থালি প্রয়োজন ছাড়াও বাঁশ ব্যবহার করা হয় খাদ্যদ্রব্য হিসেবে।
চীন-ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও খাবার হিসেবে বাঁশ আদরণীয়। সিলেটের ‘হাঁস-বাঁশ’ এর সুনাম অনেক দিনের। বাঁশের কোঁড়লের সঙ্গে হাঁস দিয়ে রান্না করা হয় এই পদ। কচি বাঁশ প্রথম খাবার হিসেবে কারা খেতে শুরু করেছিল, তার কোনো লেখাজোখা নেই। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, বাঁশ খাওয়ার চল সম্ভবত চীন থেকেই এসেছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে