প্রিন্ট তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

হাজীগঞ্জে আজাদ সরকার হত্যার মামলার প্রধান আসামী মিঠু কাজীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৫

হাজীগঞ্জে গতবছরের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে উপজেলার প্রথম শহীদ আজাদ সরকার (৫০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মো. মনির হোসেন মিঠু কাজীর ফাঁসি ও অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

টোরাগড় এলাকার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকালে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড টোরাগড় এলাকার সরকার বাড়ির সামনে থেকে বের হয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এরপর হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু কাজীর ফাঁসি ও অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম, শহীদ আজাদ সরকারের ছেলে হিমেল।

এসময় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন যুবনেতা মহসিন পাটওয়ারী, শ্রমিক নেতা সোহেল রানা, ছাত্রনেতা শামসুদ্দীন নূর ও সাখাওয়াত সরকার প্রমুখ। এসময় এলাকার কয়েক শতাধিক লোকজন ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় বুধবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে মিঠু কাজীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টোরাগড় এলাকার কাজী বাড়ির মৃত মেন্দু কাজীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালাতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক। এসময় চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে মিঠু কাজীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে,গতবছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন ৪ আগস্ট বিকালে নিজ বসতবাড়ির সামনে পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিমেলের বাবা আজাদ সরকারকে কুপিয়ে আহত করেন, মিঠু কাজীসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতেই মারা যান।

এই হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর নিহতের ছেলে আহম্মেদ কবির হিমেল বাদী হয়ে ওই বছরের ১৪ আগস্ট ১৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামি হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাজী মনির হোসেন মিঠুকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

এছাড়াও মামলার অপর নামীয় আসামিরা হলেন, একই এলাকার কাজী বাড়ির ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক কাজী, আওয়ামী লীগ নেতা বশির কাজী, বাদল কাজী ও নুরু কাজী, ছাত্রলীগ নেতা তুষার কাজী, রাকিব কাজী, সিয়াম কাজী ও রুবেল কাজী।

মকিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল আলম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলম শুভ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা ও গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজী জসিম উদ্দিন, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন