বাংলাদেশ একটা ছায়া যুদ্ধের মধ্যে আছে, সেটা বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে। আরসা বাংলাদেশের লোকজনকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে ঢুকে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক সময় বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসছে তাদের কাছে ভারী অস্ত্র আছে, তাদের কাছে এই অস্ত্র কোথায় থেকে আসছে। এসব বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন- বর্ডার কি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে নাকি আমরা বর্ডার কম্প্রোমাইজ করেছি? এমন প্রশ্নের জবাবে মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, আমি যদি এক লাইনে উত্তর দিতে চাই, অবশ্যই আমরা বর্ডার কম্প্রোমাইজ করিনি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের গায়ে বিন্দুমাত্র শক্তি থাকবে, আমরা কখনোই বর্ডার কম্প্রোমাইজ করব না। এটা আমাদের দেশ, আর দেশকে আমরা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব। এটা আপনার দেশ, এটা আমাদের দেশ। কোনো একটা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে এ দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হতে পারে, সেটা কখনোই হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বর্ডার অত্যন্ত জটিল একটি পরিস্থিতির মুখে আছে। মিয়ানমারের সরকারের অস্তিত্ব বিলীনের মুখে। আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যটিকে প্রায় দখল করে নিয়েছে। তাদের দখলে রাখাইন রাজ্যের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ রয়েছে। আরাকান আর্মি কোনো অথরাইজড সংগঠন নয়। এ জায়গাটাতে না আছে কোনো সরকারের অস্তিত্ব, না আছে আরাকান আর্মিকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বর্ডারের পরিস্থিতি যেকোনো সময়ের তুলনায় সংবেদনশীল। সেক্ষেত্রে এ সময়ে ওই এলাকায় কিছু সশস্ত্র গ্রুপের মুভমেন্ট করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তার মানে এই নয় যে এটাকে আমরা স্বীকৃতি দেব বা দেখেও না দেখার ভান করব। এ ধরনের ঘোলাটে পরিস্থিতিতে এ ধরনের মুভমেন্ট হতে পারে কিন্তু আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বিজিবি প্রাথমিকভাবে ডেফিনেটলি সাপোর্টেড বাই আর্মি, আমরা এই বর্ডারে প্রচণ্ডভাবে নজরদারি রাখছি। এখানে যেন সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হতে না পারে, এমন পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আমরা ওয়াকিবহাল আছি। তবে অবশ্যই এই মুভমেন্টটি উদ্বেগের বিষয় এবং কাঙ্ক্ষিত নয়।
সম্প্রতি লালমনিরহাটে বিমানবন্দর চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অধীনে ছিল এবং আছে। আর্মি এভিয়েশন লালমনিরহাট বিমানবন্দরে অবস্থান করছে। আগামী জুলাই মাসের দিকে লালমনিরহাট বিমানবন্দরের রানওয়ে চালু করার কথা রয়েছে এরোস্পেস ইউনিভারসিটির শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও বিমান উড্ডয়নের জন্য। ভবিষ্যতে বিমানবন্দরটি চীনের ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক বলেন, দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেইসঙ্গে আমাদের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাবে, এটা খুব স্বাভাবিক। লালমনিরহাট অনেক পুরোনো একটি বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি আগেই ছিল, এটি ব্যবহার হয়নি। প্রয়োজনের নিরিখে সেটি আবার সচল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের সম্পদ দেশের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে, এটাই স্বাভাবিক।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, এতদিন প্রয়োজন পড়েনি, তাই ব্যবহার করা হয়নি, এখন প্রয়োজন পড়েছে তাই আবারও সচল করার চেষ্টা চলছে। চীন ব্যবহার করবে কি না বা কবে ব্যবহার করবে এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় ও দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এরকম কোনো কর্মকাণ্ডে কোনো দেশকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বা সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে নিশ্চয়ই সরকার ভেবে দেখবে। আমি মনে করি না সরকার কোনো কিছু চিন্তা না করে কোনো পদক্ষেপ নেবে।