প্রিন্ট তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

হাজীগঞ্জে প্রবাসীর সম্পত্তিকে কবর দেখিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৫

হাজীগঞ্জে সৌদি প্রবাসী আলাল হোসেনের মালিকানাধীন সম্পত্তিকে কবরস্থান হিসেবে দেখিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জমি দখল নিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ আলাল হোসেন।

জানা যায়, হাজীগঞ্জ থানাধীন ২১৩নং মকিমাবাদ মৌজার ২০১৩নং বিএস দাগে ১ শতাংশ ১০ পয়েন্ট ভূমির মালিক মোঃ আলাল হোসেন। জমিটি তার ৭৮৪৮নং কবলা দলিল অনুযায়ী ক্রয় করা এবং এটি বিএস খতিয়ান ৮৪ ও খারিজ ৪৩১১নং খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এই জায়গাকে কবরস্থান দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করছে মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি প্রভাবশালী পক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে রাতে তারা আবারও জমিতে ঢুকে পরিষ্কার করে ইট, বালু ও সিমেন্ট নিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করতে চায়। বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ী আলাল হোসেন এবং তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

আলাল হোসেন জানান, “ওরা বলছে এখানে কবরস্থান ছিল, অথচ কখনো এখানে কোনো কবরস্থান ছিল না। আমি আমার জমি রক্ষা করতে গেলে বারবার হুমকি ও হামলার শিকার হই। তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, লাশ গুম করে দিবে বলেছে।

এর আগেও গত বছরের ৮ অক্টোবর ও চলতি বছরের ১ মার্চ হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এমনকি ২০২৩ সালের অক্টোবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত উক্ত জমিতে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি ২০২৩ সালের নভেম্বরে জমিটির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই বারবার জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সাবেক মোতোয়াল্লি ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারী বলেন, “এই বিষয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, এখন কোর্টই সিদ্ধান্ত দেবে। তবে কে কোর্টে গেছে তা আমি জানি না।”

বর্তমান মোতোয়াল্লি প্রিন্স শাকিল বলেন, “এখানে প্রায় ১শ বছর ধরে কবরস্থান রয়েছে। মালিকানা নির্ধারণ করবে আদালত। তবে মামলাটি কে করেছে তা আমার জানা নেই।” আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে জানান।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন,বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জাহেদ বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। আমার দপ্তরে অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি,এই ধরনের জমি দখল ও প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ নাগরিকের সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপেই এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান আসতে পারে।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন