হাজীগঞ্জে অতিরিক্ত নদী খননের ফলে ডাকাতিয়া নদীর পাড় ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি।
উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলী কৃষি মাঠের জমিসহ বাড়ি-ঘর রক্ষার্থে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের বালুঘাট অপসারণের দাবি জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসকের কাছে গণস্বাক্ষরসহ আবেদন জমা দিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে বালু ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বৈধ এবং নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। নদী ভাঙনের জন্য বালু ব্যবসায়ীরা দায়ী নয়। ব্যবসায়ীরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানান।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করি না,বরং আমরা বৈধ উপায়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বলগেট করে বালু এনে উত্তোলন করি। এই কাজের জন্য বিআইডব্লিউটিএর লাইসেন্স আমাদের রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ও নিয়ম মেনেই ব্যবসা করে যাচ্ছি। নদী ভাঙন এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ পরিবর্তনের কারণে কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও,২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নদীতে অপরিকল্পিত ড্রেজিং করা হয়েছে,যার কারণে মূলত নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে আমাদের বালু ব্যবসায়ী দায়ী করা অনুচিত।’
বালু ব্যবসায়ী এমরান হোসেন বলেন,‘আমরা স্থানীয় জনগণের সাথেও কথা বলেছি এবং তাদের যেকোনো অসুবিধার বিষয়ে সমাধান করতে প্রস্তুত আছি। আমাদের মূল লক্ষ্য স্থানীয় উন্নয়ন এবং বৈধভাবে বালু ব্যবসা পরিচালনা করা।
বালুমহাল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিয়মিত স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে আসছেন বলে জানান ব্যবসায়ী জাকির হোসেন। তিনি বলেন,‘নদীর ভাঙন রোধে এবং কৃষিজমি রক্ষা করার জন্য প্রশাসন যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা তা যথাযথভাবে পালন করছি।’
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের বৈধ ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে। তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন,কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টির সঠিক তদন্ত করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করেন, বালুঘাটের কারণে নদীর পাড়ের ক্ষতি হচ্ছে, আবার কেউ মনে করেন, অতিরিক্ত নদী খননের জন্য কৃষিজমি ভাঙনের মুখে পড়ছে।
বালু ব্যবসায়ীদের দাবি, নদী ভাঙন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ভাঙনকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।