প্রিন্ট তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

হাজীগঞ্জে কোটি টাকার তরমুজ বিকিকিনি, যানজটে নাগরিক ভোগান্তি 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল, ২০২৫

চলতি মৌসুমে চাঁদপুরে বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজের ব্যপক সরবরাহ। প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকার তরমুজ। তবে এখন তরমুজের ভরা মৌসুম হলেও গত বছরের তুলনায় বাজারে তরমুজের দাম কম। তবে এবার ব্যবসায়ী ও আড়তদার সিন্ডিকেটের অতি মুনাফার কারসাজি না থাকায়   চাঁদপুরের হাট-বাজারে তরমুজ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে না।ফলে নিন্ম আয়ের মানুষজন তরমুজ কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন না।

হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুর শহরের চৌধুরীঘাটে দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রতিদিন ৩৫-৪০টি বাল্কহেডে করে নিয়ে আসা হচ্ছে তরমুজ। আর সেই তরমুজ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে। তরমুজের সরবরাহ বাড়ায় কর্মব্যস্ততা বেড়েছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। প্রতিটি নৌযানে ৫-১৩ হাজার পিস তরমুজ আসে। পাইকাররা এখান থেকে তরমুজ কিনে চাঁদপুরের উপজেলাগুলোসহ বিভিন্ন জেলায় ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে সরবরাহ করে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরিশাল থেকে চাঁদপুরে বেশি তরমুজ আসে বলে জানান তরমুজ ব্যবসায়ীরা।

আলম নামের পটুয়াখালীর এক তরমুজ চাষি জানিয়েছেন, এবার তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে।ভালো দামও পাওয়া গেছে শুরুর দিকে।এখন দাম কমেছে। আমরা ন্যায্য মূল্যেই তরমুজ বিক্রি করি। আমাদের হাত বদল হওয়ার পর চাঁদপুরের হাটবাজারে দ্বিগুণ তিনগুণ দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের কিছুই করার নেই।

রাশেদ নামের অপর এক তরমুজ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ভালো মান ও আকারের কোনো তরমুজের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার নিচে নেই। সব মিলিয়ে লাভ-লোকসানের মাঝেই তরমুজের বিক্রি ভালো হচ্ছে। তরমুজ যত আসবে তত দাম কমবে বলে জানান তিনি।

বাজারের অবস্থা ভালো জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আড়তদার জানান,আড়তে পর্যাপ্ত তরমুজ আসছে। বর্তমানে বাজারে ক্রেতা ভালোই রয়েছে, দামও ভালো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরমুজ ব্যবসায়ী জানান, সরবরাহকৃত তিন শ্রেণির তরমুজের দাম পৃথকভাবে নির্ণয় করা হয়। বড় আকারের ১০০ পিস তরমুজের দাম ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া মাঝারি আকারের  তরমুজ ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর ছোট তরমুজ আট থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে জেলার হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারের ফলের আড়তগুলোতে এখন পাইকার আর আড়তদারের মিলনমেলা লক্ষ্য করা গেছে। কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ছুটে আসা পাইকাররা ট্রাক বোঝাই করে আবার সেই তরমুজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে হাজীগঞ্জের পাইকাররা বেশি দামে তরমুজ ক্রয় করে তা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে চারশো -পাঁচশো টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করে আসছে।

চাঁদপুরের মতলবের কালিরবাজারের অলি মিয়া সহ কয়েকজন ব্যাপারী ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রসালো এই মৌসুমি ফল তরমুজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, খুলনা, বরগুনা ও পাথরঘাটা এলাকা থেকে স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে ট্রলারযোগে ব্যাপারীরা নিয়ে আসে হাজীগঞ্জে। এখান থেকে আবার দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সিলেট, ফেনী, চিটাগংসহ প্রায় ৩০-৩৫ জেলার পাইকাররা ট্রাকে করে তরমুজ নিয়ে যায় বিক্রির উদ্দেশ্যে।

শ্রমিক কবির, মনির, জলিল, খোকন বলেন, ‘আমরা প্রতি পিস লোড আনলোড করে দেই চার টাকায়। কমিশনে দৈনিক সাত-আটশ টাকা রুজি করতে পারি। সবকিছুর দাম বাড়লেও আমাদের মজুরি বাড়েনি।

চাঁদপুরে তরমুজের পর্যাপ্ত পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ থাকলেও  আড়তদার পাইকার ব্যাপারীদের মধ্যেও মধ্যস্বত্বভোগী একটি সিন্ডিকেট কাজ করায় তরমুজের বাজার চওড়া থাকে।

হাজীগঞ্জের মেসার্স জিনাত এন্টারপ্রাইস, মেসার্স হাজী ফলভাণ্ডার, আল্লাহর দান, ভাই ভাই, বিসমিল্লাহসহ কয়েকজন আড়তদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাজীগঞ্জে দৈনিক প্রায় কোটি টাকার তরমুজ বেচাকেনা হচ্ছে।

তরমুজ বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে শত শত ট্রাক রাস্তার উপর অবৈধভাবে পার্কিং করায় পুরো হাজীগঞ্জ শহরজুড়ে সকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত থাকে দীর্ঘ যানজট। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়তকারী যাত্রীদের।হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারে তরমুজের আড়ৎ থাকায় মৌসুমে এ যানজট সমস্যা অনেকটা হাজীগঞ্জবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা নিতে হিমশিম খাচ্ছে।অপরদিকে হাজীগঞ্জ বাজার থেকে ৫০০ গজ দূরেই  হামিদিয়া জুট মিল এরিয়ায় প্রায় ১৭ একর খালি জায়গা পড়ে রয়েছে। যেখানে তরমুজের মৌসুমে অস্থায়ী আড়ৎ বসালে নদীপথে জাহাজভর্তি তরমুজ আনলোড করা সহ শত শত ট্রাক সেখানে পার্কি করার পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনসহ ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ নিলেই হাজীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘ যানজটের এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তরমুজের আড়ৎ হামিদিয়া জুট মিল এরিয়ায় স্থানান্তর করতে পারে।এতে নিরাপদে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের পাশাপাশি যানজট থেকে মুক্তি পাবে সাধারণ মানুষ এমন দাবি করেছেন স্থানীয় নেটিজেনরা।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন