সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ সকালে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন।
এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাস মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত সবাইকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা জানান।
তিনি ১৯৭৫ সালের এই দিনে যারা বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জানান। এছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ এর অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনে জাতীয় জীবনে স্বস্তি আসেনি, দেশে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল। সাত নভেম্বরের বিপ্লবের পর জনগন হাফ ছেড়ে বাঁচে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আনেন, কৃষি বিপ্লব ঘটান এবং খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন।
সিপাহী জনতার সংহতির ঐতিহাসিক তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে জনগন দেশের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জনগনের প্রত্যাশা পূরণের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি বলেই ২৪ এসেছে। তাই ২৪ এর অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের নেতৃবৃন্দ জনগনের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল হবেন এমনটাই সবাই আশা করে।
রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সকল বাংলাদেশীকে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কর্মপ্রাণ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অতি দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তিনি দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিতভাবে যার যার অবস্থান থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করা হয়। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোঃ রেজাউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রিয়াদস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিনিধি ডাঃ গোলাম হাসনাইন সোহান, মামুনুর রশিদ চৌধুরী, হামিদুল হক শামীম এবং বিপ্লব হোসেন আজাদ। আলোচনা সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং রিয়াদস্থ প্রবাসী বাংলাদেশীগন অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।