বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনটি ঘিরে দলটির নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন ফেনীর সোনাগাজীর সন্তান ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী শাহানা আক্তার সানু। তাঁকে ঘিরে দলীয় অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে আসেন শাহানা সানু। তিনি বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এবার নতুন করে শূন্য হওয়া আসনটিতে তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।
উক্ত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় শাহানা সানু ছাড়াও রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আয়শা সিদ্দিকা মনি, শাহিনুর নার্গিস, শাহিনুর বেগম সাগর, খন্দকার ফারহানা আতিকা, আফরোজা খানম নাসরিন, মাসুদা আফরোজ হক সূচি, হাসনাহেনা হীরা ও রুনা লায়লাসহ এক ডজনের বেশি নেত্রী।
উল্লেখ্য গত ০১ অক্টোবর মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সে হিসাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি।
বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শূন্য আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে, শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনটি ঘিরে বিএনপির নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা ক্রমেই আলোচনায় আসছে। এ পরিস্থিতিতে ফেনীর সোনাগাজীর সন্তান শাহানা সানু শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার জন্য।