মতলব উত্তরে রাজনৈতিক বিবেচনায় সারের ডিলার নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ উপজেলাতে সারের ডিলার ভাগ বাটোরা করে নিয়েছে বিএনপি। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে সবগুলোই রাজনৈতিক নেতারা ও দু-একটা টাকার বিনিময়ে দেওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ১৫ জন নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি বুধবার সার ডিলার নিয়োগের তালিকা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। উপজেলার ,১৪ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
কৃষি সার ডিলার নিয়োগের এই তালিকায় বিএনপি নেতা, শ্রমিক দল নেতা ও ছাত্রদল নেতা রয়েছেন, এদের মধ্যে ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নে উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মো আল মামুন, বাগানবাড়ি ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ভুঁইয়া, ষাটনল ইউনিয়নে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহজালাল প্রধান এর ছোট ভাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন প্রধান, এখলাসপুর ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনু, দুর্গাপুর ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নাহিদুল ইসলাম, কলাকান্দা ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মিজানুর রহমান, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন জয়, জহিরাবাদ ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিন প্রধান, সুলতানাবাদ ইউনিয়নে সুলতানাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, মোহনপুর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক মো. সোহেল রানা, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাতিজা মো. রিদয়,গজরা ইউনিয়নে কীটনাশক ব্যবসায়ী মনির হোসেন, ফরাজীকান্দী ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গনি তপাদারের মেয়ের জামাই এবং ফ্যামিলি কার্ডের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. সালাউদ্দিন খান, ছেংগারচর পৌরসভায় বিএনপি সমর্থক ইমরান হোসেন।
যারা সার ডিলারশিপ পাননি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, মতলব উত্তরে সার ডিলার নিয়োগ ও বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সার ডিলারশিপ ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে যারা কৃষকদের সেবা দিয়ে আসছেন এবং ডিলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন, তাদের অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলারশিপ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।তারা আরও বলেন, সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা বা পক্ষপাতিত্ব থাকা উচিত নয়। কৃষকদের স্বার্থে স্বচ্ছতা ও নীতিমালা অনুসরণ করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
সারের ডিলারের জন্য আবেদনকারী মোহনপুর ইউনিয়নের কীটনাশক ব্যবসায়ী মিয়াজ উদ্দিন বলেন, খুব খুশি হয়েছিলাম সরকার যখন সার ডিলার নিয়োগের আবেদনের সুযোগ দিয়েছিল। আমি ১৬ বছর যাবৎ কীটনাশকের ব্যবসা করি, কিন্তু সেখানে যাচাই-বাছাই দেখা গেল দলীয় বিবেচনায় আমার ইউনিয়নের এমন একজন কে ডিলার নিয়োগ দেয়া হলো যে কিনা সারের ব্যবসার সাথে কখনো সম্পৃক্ত ছিল না একেবারে অনভিজ্ঞ।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, এ উপজেলা থেকে মোট ৬৮ জন আবেদন করেছিলেন। আমরা যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় যাচাই করে সেখান থেকে একজনের নাম চূড়ান্ত করে আমাদের কাছে পাঠিয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরজমিনে যাচাই-বাছাই করে প্রাপ্ত ভ্যালিড আবেদনগুলো থেকে তিনটি করে আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর মন্ত্রণালয় সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছে।