ফ্রী ভিসা কি জিনিস?
• যে ভিসা প্রসেসিং করার ক্ষেত্রে ভিসাপ্রার্থীর কোন ধরণের খরচ হয় না, সব খরচই কফিল বহন করে- প্রচলিতভাবে তাকেই ফ্রী ভিসা বলে।
সত্যিকার অর্থে ফ্রী ভিসা বলে কিছু নাই – কারণ প্রতিটি ভিসারই কম হোক বা বেশী হোক – কিছু না কিছু প্রসেসিং খরচ আছে। অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিরা নিরীহ জনগণকে বোঝায় যে ফ্রী ভিসা হলো এমন একটা ভিসা যার কোন কফিল থাকে না, ফলে যেখানে খুশি সেখানে কাজ করা যায়, অনেক বেশী আয় করা যায় । তাদের এ আশ্বাস বড় রকমের প্রতারণা।
একবারও কি ভেবে দেখেছেন যে কফিল না থাকলে সারা মাস কাজের নিশ্চয়তা কে দিবে, মাস শেষে বেতন কে দিবে? আকামা শেষ হলে তা কে নবায়ন করবে। সুনির্দিষ্ট কাজের ভিসায় এলে যেমন সারা মাস কাজের নিশ্চয়তা থাকে, তেমনই মাস শেষে বেতন/ ওভার টাইমেরও নিশ্চয়তা থাকে। আকামার মেয়াদ শেষ হলে কফিলই দায়িত্ব নিয়ে তা নবায়ন করেন ।
কথিত ফ্রী ভিসা এলে সারা মাস কাজের নিশ্চয়তা, মাস শেষে বেতন আর আকামা নবায়ন করার কোন নিশ্চয়তা থাকে না ।
মনে রাখবেন, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে কফিল ছাড়া আকামা নবায়নের কোন সুযোগই নাই। কথিত ফ্রী ভিসায় এলে আকামা নবায়নের জন্য অবশ্যই একজন কফিল খুঁজে বের করতে হবে কফিল এ জন্য বাড়তি টাকা দাবী করবে । প্রতি মাসে আমরা অসংখ্য কল পাই যে আকামা না থাকায় তারা কাজ করতে পারছে না আকামা করার জন্য কফিল খুঁজে পাচ্ছে না, পেলেও ৪/৫ মাসের বেতন দাবী করছে, টাকা নিয়েও আকামা নবায়ন করে দিচ্ছে না ।
আকামা না থাকায় পুলিশে ধরছে, জেলে দিচ্ছে, দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে – এ রকম ঘটনা অহরহ ঘটছে । তিন বছরের চুক্তির কথা বলে ৩ মাসের ভিজিট ভিসা দিয়ে জর্ডানে এনে ছেড়ে দেয়া ঘটনাও ঘটছে ।
কথিত ফ্রী ভিসায় এসে দিন মজুর এ পরিণত হবেন না । কথিত ফ্রী ভিসা এর ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হবেন না – ভিসা প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন।
বাংলাদেশ দূতাবাস, আম্মান