বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (২য় ফেইজ) শীর্ষক প্রকল্পের হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক পেশাজীবিদের ১০ দিনের পেশাভিত্তিক অনুষ্ঠিত সফটস্কিল প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও এককালীন অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কার্যালয়ের আয়োজনে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলা ই-সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও অনুদানের ১৮ হাজার টাকার প্রতিকী চেক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এর আগে বক্তব্য রাখেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বশির, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এমএ রহিম পাটওয়ারী, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এএসএম কামরুজ্জামান টুটুল ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান পাপ্পু, প্রশিক্ষণার্থী বাবুল সরকার ও উত্তম শীল।
সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাচীনকাল থেকে বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী মৃৎ শিল্প, কামার, বাঁশ-বেত ও কাঁসা-পিতলের পন্য প্রস্তুতকারক কিংবা মুচি’র মতো বেশ কিছু পেশা আজ বিলুপ্তির পথে। এসব কাজে যারা জড়িত, তাদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান অনুন্নত থাকা এবং আধুনিকতার কারণে বাংলার প্রাচীন এই শিল্প ও পেশাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
তারা বলেন, পরিবেশ বান্ধব ও দেশের ঐতিহ্যপূর্ণ প্রান্তিক পেশাজীবিদের পন্যসমূহ আধুনিক ও টেকসই এবং পেশাজীবিদের জীবন মানের উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১৭ সাল থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আসছে। বর্তমানে ‘২য় ফেইজ’ এর মাধ্যমে আবারো এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আপনারা যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আশাকরি, প্রশিক্ষণে শিক্ষনীয় জ্ঞান কাজে লাগাবেন।
বক্তারা বলেন, চলমান এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে পড়া কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ-বেত পন্য, কাঁসা-পিতল সামগ্রী, জুতা মেরামত (মুচি), বাদ্যযন্ত্র, নকশি কাঁথা, লোকজযন্ত্র, শিতল পাটি-শতরঞ্জী তৈরি সহ বিভিন্ন সনাতন পেশার সাথে সম্পৃক্ত লোকজনকে প্রশিক্ষণ ও অনুদান প্রদান করে আসছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
এতে প্রান্তি পেশাজীবী জাতিগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদিন পন্য ও সেবার উৎকর্ষ এবং পেশার আধুনিকায়নের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিসহ সমাজের মূল শ্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি সহ টেকসই উন্নয়নে ভূমি রাখছে।