চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন যানবাহন। এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহারের জন্য আনা একাধিক গাড়িসহ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন। যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবহার না থাকায় মূল্যবান এসব গাড়ি ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার নিজস্ব ভবন ও নির্ধারিত স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও রুদ্রপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যানবাহন ফেলে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই স্থানসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা জমে পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। একদিকে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িগুলো যথাযথভাবে কাজে না লাগায় পৌরবাসী ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় নাগরিকদের প্রশ্ন, জনগণের অর্থে কেনা কোটি টাকার গাড়ি যদি বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হয়, তাহলে সেগুলো কেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং কেনই বা যথাসময়ে কাজে লাগানো হচ্ছে না?
অভিযোগ রয়েছে, মূল্যবান এসব যানবাহন খোলা জায়গায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গাড়িগুলোর ব্যবহারযোগ্যতাও কমে যাচ্ছে। অথচ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট নিরসনে এসব যানবাহন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হলে পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি করা সম্ভব বলে মনে করছেন নাগরিকরা।
এদিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকার কারণে দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয়, অন্যদিকে নাগরিক সেবার ঘাটতি—দুই ধরনের সংকটই সৃষ্টি হয়েছে।
পৌর নাগরিক সমাজের দাবি, অযত্নে পড়ে থাকা কোটি কোটি টাকা মূল্যের যানবাহনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে অপসারণ করে কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করে দীর্ঘদিনের আবর্জনার স্তূপ অপসারণ করতে হবে।
নাগরিকরা আশা করছেন, পৌর প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এবং সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান যানবাহনগুলো আর অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হতে দেবেন না।
পৌরবাসীর ভাষ্য, জনগণের টাকায় কেনা সরকারি সম্পদ কোনোভাবেই অবহেলায় নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। এসব যানবাহনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।