প্রিন্ট তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

কৃষকের ঘর আলো করে নাছিম সিভিল জজে সুপারিশপ্রাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অদম্য মেধা, কঠোর অধ্যবসায় আর অটল স্বপ্নের কাছে যে দারিদ্র্য কখনো বাধা হতে পারে না, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছেলে আবু সালেহ মোহাম্মদ নাছিম। বাবা পেশায় একজন সাধারণ কৃষক, মা গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে যেখানে দিনযাপনের সংগ্রামই নিত্যসঙ্গী, সেখানে সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার এক লালিত স্বপ্ন বুকে পুষেছিলেন এই দম্পতি। বাবা-মায়ের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে নাছিম আজ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সিভিল জজ হিসেবে।

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা (বিজেএস)-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম স্থান অর্জন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের নূরপাড়া গ্রামের সন্তান আবু সালেহ মোহাম্মদ নাছিম। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় নাছিমের এই গৌরবময় অর্জনে এখন তাঁর পরিবার, স্বজন, শিক্ষক এবং গোটা এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।

নাছিমের এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি সহজ ছিল না। ২০১৬ সালে ডিমলা উপজেলার ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৪.৫৬ পেয়ে এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পান জিপিএ-৫। কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর আনন্দের সংবাদটি নাছিম তাঁর দাদা মজিবর রহমানকে জানান। নাতিনকে জড়িয়ে ধরে দাদা সেদিন নাছিমকে ভবিষ্যতে একজন বিচারক বা ‘জজ’ হওয়ার পরম উৎসাহ দেন। দাদার সেই একটি বাক্যই তরুণ নাছিমের হৃদয়ে বিচারক হওয়ার স্বপ্নকে শক্ত ভিত এনে দেয়।
সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটে তিনি ভর্তি হন দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরিবারের আর্থিক টানাটানি থাকলেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়েই গেছেন কৃষক বাবা আব্দুস সামাদ দুলু ও মা। নাছিম বলেন, তাঁর বাবা-মায়ের অসীম ত্যাগ ও উৎসাহ না থাকলে এতদূর আসা সম্ভব ছিল না। দীর্ঘ পরিশ্রম ও বিরামহীন প্রস্তুতির পর নাছিম ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেন এবং বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান করে নেন।

নাছিমের জুডিসিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্তির খবর গ্রামে পৌঁছাতেই নূরপাড়া গ্রামসহ পুরো পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কৃষক পরিবারের এক সন্তানের এমন অনন্য অর্জনে শিক্ষক, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নাছিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে অভিনন্দনের জোয়ার। নাছিমের এক স্বজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লেখেন, “আব্দুস সামাদ দুলুর ছেলে নাছিমের এই অর্জন কেবল তাঁদের পরিবারের নয়, গোটা নীলফামারী জেলার জন্যই এক বিশাল গর্বের বিষয়।”

পরিবারের সদস্যরা নাছিমের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন তিনি সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
কৃষক পরিবারের সন্তান আবু সালেহ মোহাম্মদ নাছিমের এই বিরল সাফল্য নীলফামারীর ডিমলাসহ সারা দেশের প্রান্তিক এলাকার তরুণদের কাছে এক নতুন আশার আলো। প্রথাগত প্রতিকূলতা কাটিয়ে মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায় থাকলে যে স্বপ্নের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব—নাছিম তা নতুন করে প্রমাণ করলেন।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন