প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

হাজীগঞ্জে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর আকবর হোসেনকে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাজীগঞ্জে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর মো. আকবর হোসেনকে একের পর এক অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে লেদা জাকিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সাবেক কাউন্সিলর। মামলায় লেদা জাকিরসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রের তথ্য অনুযায়ী, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমূড়া গ্রামের ছেরাজ উদ্দিন বেপারী বাড়ির মৃত নজির আলীর ছেলে মৃত চান মিয়া ১৯৬৯ সালের ১৯ এপ্রিল ৬ নম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের শীল বাড়ির উজ্জ্বল মনি সিংয়ের কাছ থেকে ২৩ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। এ সংক্রান্ত দলিল নম্বর ৩৪৮১।

পরবর্তীতে ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই সম্পত্তির মধ্য থেকে ২৪২ নম্বর রায়চোঁ মৌজার ১৫৫ নম্বর সিএস খতিয়ানের সাবেক ২৭১ নম্বর দাগের ১৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে। অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার নম্বর ১১/৪। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অধিগ্রহণের বিপরীতে চান মিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থও গ্রহণ করেন।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮০ সালের ১১ ডিসেম্বর চান মিয়া একই এলাকার বৈষ্ণব বাড়ির লালমোহন সাহার ছেলে অনুকূল সাহার কাছে ১৫ শতাংশ সম্পত্তি বিক্রি করেন। এ সংক্রান্ত দলিল নম্বর ৯৭১০। অভিযোগকারীর দাবি, ওই ১৫ শতাংশ জমির মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণ করা জমির অংশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ৮ জুন অনুকূল সাহা ওই ১৫ শতাংশ সম্পত্তি মো. আকবর হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। এ সংক্রান্ত দলিল নম্বর ৩৪৮৬।

অভিযোগকারীর হিসাব অনুযায়ী, চান মিয়া ২৩ শতাংশ জমি ক্রয়ের পর এর মধ্যে ১৪ শতাংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করে নেওয়ায় তাঁর মালিকানায় অবশিষ্ট থাকার কথা ছিল ৯ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অধিগ্রহণকৃত জমির অংশসহ ১৫ শতাংশ সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৯৮৮ সালের জানুয়ারি মাসে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে সড়কের অধিগ্রহণকৃত ১৪ শতাংশ সম্পত্তি দখলীয় সূত্রে দাবি করে চান মিয়া সাবেক কাউন্সিলর মো. আকবর হোসেনের কাছে জমিটি ব্যবহারের সম্মতিপত্র দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মাছ চাষের জন্য একটি সম্মতিপত্র দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক কাউন্সিলর মো. আকবর হোসেনের অভিযোগ, চান মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ওরফে লেদা জাকির সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য গোপন করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা করে আসছেন। এতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় মো. আকবর হোসেন বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৮৪৬/২৩। মামলায় লেদা জাকিরকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে মামলার সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন