চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে আর কখন আসছে—তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি যেন নেই। কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ থাকার পর আবার হঠাৎ চলে যাচ্ছে। ফলে বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলোতেও উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি তোলার মোটর চালানো, মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করলেও সঠিক সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
চাঁদপুরে সাম্প্রতিক সময়েও চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছিল বলে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ অবস্থায় হাজীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, বিদ্যুতের এই ‘আসা-যাওয়ার খেলা’ বন্ধ করে দ্রুত স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এতে জনভোগান্তি কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও স্বস্তি ফিরবে।