প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

কচুয়ায় ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

​শনিবার বিকেলে পিপলকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী–পুরুষ অংশ নেন।

​মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল আফছার, গাজী রুবেল, শরীফ হোসেন, নিয়ামত, হাসিনা বেগম, ফাতেমা ও নার্গিস বেগম প্রমুখ।

​বক্তারা বলেন, চলতি মাসের ৫ আগস্ট ফেসবুকে একটি ভুয়া (ফেক) আইডিতে আসা বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্য তরিকুল ইসলামের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম এবং একই গ্রামের নূরুল আফছারের ছোট ভাই আবু আব্বাসের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এই খবর পেয়ে সেনাসদস্য তরিকুল ইসলাম লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আবু আব্বাসের ওপর হামলা চালান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

​এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্য তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৬ আগস্ট কচুয়া থানায় চাঁদাবাজি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে নূরুল আফছারসহ পিপলকড়া গ্রামের ৯ পরিবারের ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৪)। মামলায় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

​বক্তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। তারা আরও অভিযোগ করেন, সেনাসদস্য তরিকুল ইসলাম সেনাবাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি শুধু মামলা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর সদস্য তরিকুল ইসলামের সাথে একাধিক বার ফোনে চেষ্টা করার পরও ফোন না ধরায় বক্তব্য নেওয়া যান নি।

​মামলার এক আসামির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘মিথ্যা মামলায় আমার ছেলে এখনো কারাগারে বন্দি রয়েছে। সেনাসদস্য তরিকুল ইসলাম বৃষ্টির কারণে পা পিছলে পড়ে আঘাত পান; অথচ এখন তিনি দাবি করছেন যে আমার ছেলে নাকি তাঁর পা ভেঙে দিয়েছে! আমি এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির ও প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

​এলাকার বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মামলার আসামিরা এলাকায় অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁরা মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে নিয়মিত অবদান রেখে আসছেন। তাঁরা কীভাবে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো অপতরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, তা কারও বোধগম্য নয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কচুয়া থানার এসআই মোঃ সোহেল খানের মোবাইল ফোনের এই নাম্বারে ০১৭১৮৩৪৮৯০৩ কল করে বার বার চেষ্টা করে ও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন