চাঁদপুরে মাদক কেনার টাকা না পেয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে বাবাকে হত্যার দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কোহিনুর রশিদ।
দণ্ড পাওয়া মো. হোসেন গাজী (৩৮) সদর উপজেলার উত্তর ইচুলী গাজী বাড়ির প্রয়াত মুছাব্বর গাজীর ছেলে।
মামলার বরাতে পিপি কোহিনুর রশিদ বলেন, হোসেন একজন মাদকসেবী। মাদকের টাকার জন্য তিনি সব সময় বাবা মো. মুছাব্বর গাজীর (৬০) সঙ্গে ঝগড়া করতেন। মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে তাকে ঢাকায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা করা হয়। তাতেও কোনো কাজ হয়নি।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর সকালে ঘরে শুয়ে ছিলেন মুছাব্বর। এ সময় হোসেন ঘরে ঢুকে দা দিয়ে প্রথমে তার বাবার মাথায় কোপ মারেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি শোয়া থেকে উঠলে আবার তাকে কোপ মারা হয়; হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তাৎক্ষণিক পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওইদিন মুছাব্বর গাজীর বড় ছেলে মো. আলম গাজী চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হোসেন গাজীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরদিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন এসআই মোমিনুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন বলে জানান পিপি কোহিনুর রশিদ।
১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
আসামিপক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।