চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এসএসসি/দাখিল পরীক্ষা-২০২৬ এর ফলাফল প্রকাশের পর আবেগ ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বাড়ির সামনে গিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও বাড়ি লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপের অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শাহরাস্তি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরকাপ গ্রামে ভোলদীঘি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থী হলো—আবদুল্লাহ আল বাকি (১৭), পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা: নিজ মেহের; আরাফাত হোসেন (১৭), পদুয়া; মাহফুজুর রহমান জিহাদ (১৭), কাজিরকাপ; নুরুজ্জামান সায়মন (১৭), পদুয়া এবং রায়হান হোসেন (১৭), পদুয়া। তাদের সবার থানা শাহরাস্তি, জেলা চাঁদপুর।
পুলিশ জানায়, ফলাফল প্রকাশের পর ওই পাঁচ শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় তারা বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি ইট নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ বাইরে এলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সংশ্লিষ্ট পাঁচ শিক্ষার্থীর নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের থানায় নিয়ে আসতে বলা হয়।
পুলিশের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, সোমবার রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাদের থানায় এনে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেগ ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে এ কর্মকাণ্ড করেছে বলে জানায়। একই সঙ্গে নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হয়ে ভবিষ্যতে তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না বলে পুলিশকে আশ্বস্ত করেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরাও অঙ্গীকারনামা প্রদান করে।
এদিকে থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানায়। পরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করা হলে তিনি এ ঘটনায় আর কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করে এবং এটি তাদের প্রথম ঘটনা হওয়ায় পুলিশ তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় প্রদান করে।