চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র আলগী বাজারের প্রধান সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারের বিভিন্ন স্থানে কাদা, ময়লা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ী, ক্রেতা, শিক্ষার্থী, রোগীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারসংলগ্ন ড্রেনের বিভিন্ন অংশ প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্যে ভরে থাকায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের নোংরা পানি উপচে প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় পথচারীদের কাদা ও ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে পানি জমে যায়। কাদা ও দুর্গন্ধের কারণে অনেক ক্রেতাই বাজারে আসতে চান না। এতে প্রতিদিন ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলেন, আলগী বাজার হাইমচরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র হলেও সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার এমন বেহাল চিত্র দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় বর্জ্য জমে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পুরো বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নোংরা পানি দীর্ঘসময় জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে যায়। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও পরিবেশজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অস্থায়ীভাবে ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিকল্পিত সংস্কার। পাশাপাশি বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং ড্রেন পরিষ্কারের কার্যক্রম চালু রাখারও দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, আলগী বাজারের এই সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং বাজার পরিচালনা কমিটির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
হাইমচরের অন্যতম ব্যস্ত এই বাজারের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।