প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছন হাজীগঞ্জের রাজাপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষকরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬

হাজীগঞ্জের হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাজাপুর ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলায় কর্মরত সংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।

স্থানীয় এসএম সাইফুজ্জামান সায়েম ও মাসুম বিল্লাহ’সহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন মানুষের হুমকি-ধমকিতে তারা ভীতসন্তস্ত্র অবস্থায় মাদ্রাসায় অবস্থান’সহ আসা-যাওয়া করছেন। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর , স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শিক্ষকরা জানান, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বেতন ও পরীক্ষার ফি বকেয়া রেখে অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে পরীক্ষা শেষের দিকে হওয়ায় গত ১৪ জুলাই তাদেরকে বেতন ও পরীক্ষার ফি’র পরিশোধের কথা বলা হয়। এসময় ৫জন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কাছে যান এবং তাঁর অনুমতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে আব্দুর রহমান নামের শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কাছে না গিয়ে বাড়িতে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা হেদায়েত উল্যাহ’সহ আবুল বাসার, ওজি উল্যাহ ও এসএম সাইফুজ্জামান সায়েম মাদ্রাসায় আসেন।

তারা অধ্যক্ষের কাছে আব্দুর রহমান নামের শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি জানতে চান। এর মধ্যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সহ-সুপারকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সায়েম উশৃঙ্খল আচরণ এবং শিক্ষকদের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এর আগে গত ৩০ জুন মাদ্রাসার শিক্ষক ফিরোজ আহম্মদের সাথে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কামরুল হাসানের বাক-বিতন্ডা নিয়েও সায়েম মাদ্রাসায় এসে উশৃঙ্খল আচরণ করেন।

এছাড়া মাদ্রাসার গাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১’শ ডাব (নারকেল) চুরি খেয়ে ফেলার ঘটনায় মাদ্রাসা এক শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন শিক্ষকরা। পরে ওই শিক্ষার্থীকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা হলে, সে স্বীকার করে তার সাথে বেশ কয়েকজন জড়িত থাকার কথা জানায়। শিক্ষার্থী বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার কারণে সায়েম মাদ্রাসায় এসে শিক্ষকদের সাথে উশৃঙ্খল আচরণ করেন।

অপরদিকে কয়েক মাস পূর্বে মাদ্রাসার মালিকানাধীন সম্পত্তিতে টিনের বেড়া দিয়ে দখলে নেন সায়েম। টিনের বেড়া দেওয়ার সময় অধ্যক্ষ’সহ শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে মারমুখী আচরন’সহ তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন সায়েম। তার প্রায় সকল কাজের সাথে জড়িত থাকেন মাসুম বিল্লাহ। মাসুম মাদ্রাসা মাঠে এসে ইচ্ছেকৃতভাবে ফুটবল খেলে মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের বেশ কয়েকডিট গ্লাস ও সীমান প্রাচীরের টিনের বেড়া ভেঙ্গে ফেলে।

এছাড়া ফুটবল খেলার কারণে মাদ্রাসা বেশ কয়েকটি চারাগাছ ভেঙ্গে গেছে এবং ফুলের বাগান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এবিষয়ে সায়েমকে বলা হলে, সে শিক্ষকদের সাথে উশৃঙ্খল ও মারমুখী আচরণ করে থাকে। এতে করে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি শিক্ষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

শিক্ষার্থী মাহিম, জিসান, নাজিম আহমেদ, নেয়ামত উল্যাহ্ ও আশিক উল্যাহ বলেন, বেতন ও ফি পরিশোধ করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য হুজুরেরা (মাদ্রাসার শিক্ষক) বলেছেন। কিন্তু আমরা টাকা সাথে করে নিয়ে আসিনি। তাই অধ্যক্ষ হুজুরের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু আব্দুর রহমান আমাদের সাথে অধ্যক্ষ হুজুরের কাছে না গিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।

সিনিয়র শিক্ষক এসএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বেতন পরিশোধ ও ফি ছাড়াই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুইদিন পূর্বে তাদেরকে বেতন ও ফি পরিশোধের জন্য বলা হয়। কিন্তু কাউকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। যদি এমনটি হতো, তাহলে আব্দুর রহমান ছাড়া ওই দিনের পরীক্ষায় অন্য শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করলো কিভাবে ?

সহ-সুপার মো. কবির হোসাইন বলেন, ওই দিন শিক্ষকদের কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সায়েম উশৃঙ্খল আচরণ ও হুমকি দিয়েছে।

অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, ভূমি কিংবা সম্পত্তিগত বিষয় অথবা শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মচারী। যাই হোক না কেন, সব বিষয়ে সায়েম বাড়াবাড়ি করে। সে মাসুমকে নিয়ে মাদ্রাসায় এসে আমাদেরকে সাথে উশৃঙ্খল ও মারমুখী আচরণ করে এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে। সবশেষ, সে আমার পিঠের চাড়মা উঠিয়ে ফেলা’সহ শিক্ষকদের হুমকি দেয়। এতে করে আমিসহ মাদ্রাসার শিক্ষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এসময় তিনি বলেন, নিশ্চই তাদের সাথে আরো অনেকে জড়িত আছে। এরমধ্যে রাসেল নামের একজন রয়েছে। সে কোন কিছুর সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে এবং আমাদেরকে জিজ্ঞাসা না করেই ফেসবুকে অপ-প্রচার করে। এতে শিক্ষক ও মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আমরা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যামান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকাবাসীর কাছে এর প্রতিকার চাই।

এদিকে অভিযুক্ত রাসেল বলেন, আমি কোথাও অন্যায় দেখলে ফেসবুকে শেয়ার করে সে বিষয়টির প্রতিবাদ জানাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই মাদ্রাসা মাঠে খেলাধূলা করি।

অপরদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে এসএম সাইফুজ্জামান সায়েম বলেন, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা (শিক্ষকরা) আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা যেসব বিষয়ে বলেছেন, ওই সব বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আমাকে মাদ্রাসায় যেতে বলেছেন, তাই আমি গিয়েছি। তবে আমি হুজুরদের (শিক্ষক) সাথে খারাপ ব্যবহার করিনি। আর মাদ্রাসার সাথে আমাদের সম্পত্তির (ভূমি) বিনিময় হয়েছে। যেহেতু মাদ্রাসা এবং রাস্তার পাশেই আমাদের বাড়ি, তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই টিনের বেড়া দিয়েছি।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন