বর্ষাকাল শুরু হলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। টানা বৃষ্টি ও বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেয় এডিস মশা, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। প্রতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং অনেকে মৃত্যুবরণও করেন। তাই বর্ষা মৌসুমে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, পানির ট্যাংক, এসির ট্রে কিংবা যেকোনো স্থানে তিন থেকে পাঁচ দিন জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ির আশপাশের সব ধরনের পাত্র পরিষ্কার করা এবং কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা।
ফুলের টব, পানির পাত্র ও ছাদের ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা।
দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করা এবং পূর্ণহাতা পোশাক পরা।
মশা প্রতিরোধে অনুমোদিত রিপেলেন্ট বা স্প্রে ব্যবহার করা।
জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে ব্যথা বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করা।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি পরিবার ও এলাকার বাসিন্দাদের সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বর্ষাকালে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিজের পরিবার, প্রতিবেশী এবং সমাজকে নিরাপদ রাখতে এখনই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও পানি জমতে দেবেন না এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করুন। সচেতনতাই হতে পারে ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।