প্রবাসী শ্রমিকরা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। জীবিকার তাগিদে তারা পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়।
প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে তাদের অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো অর্থ অসংখ্য পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের উন্নয়নে এত বিশাল অবদান রাখার পরও অনেক সময় প্রবাসী শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করা হয় না। বিদেশে তারা নানা প্রতিকূল পরিবেশে কঠোর পরিশ্রম করেন, অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্য, নির্যাতন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যান। তাদের এই ত্যাগ ও সংগ্রাম শুধু পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীরা শুধু শ্রমিক নন, তারা দেশের অর্থনীতির নীরব যোদ্ধা। তাদের পাঠানো প্রতিটি রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করে। তাই রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে অধিকার রক্ষা করা এবং দেশে ফিরে পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রেরণে সহজ, নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
দেশের সাধারণ মানুষেরও উচিত প্রবাসীদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কারণ তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ এবং আত্মনিবেদনের ফলেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।