২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার মায়ামি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। এই ম্যাচে আরেকটি আকর্ষণীয় লড়াই দেখা যাবে দুই তারকা ফুটবলার জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হালান্ডের মধ্যে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে একসঙ্গে খেলার সময় দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। এবার সেই বন্ধুত্বই বিশ্বকাপের মঞ্চে কঠিন পরীক্ষার মুখে।
নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দারুণ ছন্দে রয়েছেন দুই ফুটবলার। নরওয়ের হয়ে হালান্ড চার ম্যাচে সাত গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলদাতা। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ে তিনি জোড়া গোল করেন।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের হয়ে চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন বেলিংহ্যাম। এক আসরে চার গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ইংলিশ মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি কিংবদন্তি ববি চার্লটনের কীর্তির পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
২০২০ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানিতে শুরু হয় দুই তারকার পথচলা। হালান্ড ওই বছরের জানুয়ারিতে আরবি সালজবুর্গ থেকে ডর্টমুন্ডে যোগ দেন। কয়েক মাস পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্মিংহাম সিটি থেকে ক্লাবটিতে আসেন বেলিংহ্যাম।
বুন্দেসলিগায় দ্রুতই তাদের বোঝাপড়া জমে ওঠে। বেলিংহ্যামের নিখুঁত পাস ও আক্রমণভাগে এগিয়ে যাওয়ার দক্ষতা হালান্ডের গতিময় দৌড়ের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। ডর্টমুন্ডে একসঙ্গে ৬৩টি ম্যাচ খেলেন তারা, যার মধ্যে সাতটি গোল আসে একজনের তৈরি সুযোগ থেকে অন্যজনের ফিনিশিংয়ে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিকতাসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের পর এক মজার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সংবাদ সম্মেলনে বেলিংহ্যাম হঠাৎ হালান্ডের গালে চুমু দেন, যখন নরওয়েজিয়ান তারকা তার তরুণ সতীর্থের প্রশংসা করছিলেন।
ডর্টমুন্ডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতেও তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ফুটে ওঠে, যা ভক্তদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।
২০২২ সালে হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটিতে এবং ২০২৩ সালে বেলিংহ্যাম রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেও তাদের বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি। তারা নিয়মিত বার্তা বিনিময় করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে সমর্থন জানিয়ে থাকেন।
বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘সে সবসময় আমাকে উৎসাহ দেয়। প্রথম ম্যাচের আগে ও পরে সে আমাকে বার্তা পাঠিয়ে শুভকামনা ও অভিনন্দন জানিয়েছিল। সে আমার জন্য খুবই মূল্যবান একজন মানুষ।’
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বেলিংহ্যামের অভিষেকে গোল করার পর প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেন হালান্ড। বেলিংহ্যামও একাধিকবার হালান্ডকে ‘ভাইয়ের মতো’ বলে উল্লেখ করেছেন।
শনিবারের ম্যাচকে সামনে রেখে দুই দলের কোচিং স্টাফই বিশেষ কৌশল সাজিয়েছে। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে পেনাল্টি বক্সে হালান্ডের জায়গা সীমিত করে দেওয়া। অন্যদিকে মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে চেষ্টা করবে বেলিংহ্যামের আক্রমণাত্মক ট্রানজিশন থামিয়ে দিতে।
এই ম্যাচের বিজয়ী দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে এবং শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। শেষ চারে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ড।