প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

বাংলাদেশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স নিশ্চিতকরণে কোকা-কোলা মালদ্বীপের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দূতাবাসের বৈঠক

আব্দুল কাদের, মালদ্বীপ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬

মার্কিন ডলারে বেতন প্রদানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশে তাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন উদ্যোগ কোকা-কোলা মালদ্বীপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিলিন্দ দেরাসারি সম্প্রতি মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের চ্যান্সারি ভবনে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোকা-কোলা মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে মান্যবর হাইকমিশনার মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করায় কোকা-কোলা মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষই স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশি প্রবাসীরা মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছেন।

বৈঠকে মিলিন্দ দেরাসারি জানান যে, বর্তমানে কোকা-কোলা মালদ্বীপে ২০০-এরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন কারিগরি, প্রশাসনিক, উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাগত পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান কোম্পানির ধারাবাহিক সাফল্য ও কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ। এ প্রসঙ্গে মান্যবর হাইকমিশনার সময়মতো ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিশেষভাবে মার্কিন ডলারে বেতন প্রদান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ডলারে বেতন প্রদানের ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেশে পাঠাতে পারেন, যা তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনার আরও বলেন যে, মার্কিন ডলারে বেতন প্রদানকে উৎসাহিত করা মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের আর্থিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুদ্রায় বেতন প্রাপ্তি প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
জবাবে কোকা-কোলা মালদ্বীপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান যে, বর্তমানে কোম্পানিটি বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন মার্কিন ডলারে প্রদান করছে এবং ভবিষ্যতেও যথাসম্ভব এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে মান্যবর হাইকমিশনার সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে মান্যবর হাইকমিশনার বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা মালদ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ হাইকমিশনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
আলোচনায় ইউনিভার্সাল গ্রুপের আওতাধীন কোকা-কোলা মালদ্বীপ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। জনাব দেরাসারি জানান যে, থুলুসধু দ্বীপে অবস্থিত কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তারা আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।

হাইকমিশনার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে আরও বেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে। বৈঠকে কোকা-কোলা মালদ্বীপের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান যে, প্রতিষ্ঠানটি থুলুসধু দ্বীপে অবস্থিত উৎপাদন কারখানা থেকে কোকা-কোলা, ফ্যান্টা, স্প্রাইটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পানীয় উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। তিনি আরও জানান যে, প্রতিষ্ঠানটি গত ৩৬ বছর ধরে মালদ্বীপে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং টানা চার বছর দক্ষিণ এশিয়ার সেরা পুরস্কার অর্জন করেছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা, বিনিয়োগ, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। মান্যবর হাইকমিশনার বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতা, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা তুলে ধরে মালদ্বীপের ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের জন্য ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করায় মান্যবর হাইকমিশনার কোকা-কোলা মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নৈতিক নিয়োগব্যবস্

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন