প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আটটি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থীই অংশ নিতে পারছে না। এর মধ্যে চারটি কলেজে কোনো নিবন্ধন হয়নি এবং বাকি চারটিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শূন্য পরীক্ষার্থী থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলার এবং একটি ফেনী জেলার।

কলেজগুলো হলো—ফেনীর নোবেল কলেজ; কুমিল্লার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও সিসিএন মডেল কলেজ; এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ ও উলুকান্দি কলেজ।

চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার মোট ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ১৯৬ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৬০৬ জন ছাত্র রয়েছে। ফলে ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।

বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন জানান, আটটি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃত থাকলেও এবার তাদের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। একইসঙ্গে গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাস করা ১৩টি কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে, ফলে সেগুলোও এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়া নারী শিক্ষার অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও ছাত্রদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানায়, ২০১২ সাল থেকে কলেজ শাখা চালু থাকলেও এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। তার ভাষায়, গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় এবার ১০ জন ভর্তি হলেও কেউই পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

তিনি আরও জানায়, আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারণাও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল নাসের জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা চালু করলেও তা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে আর্থিক চাপ বাড়ছে, শিক্ষার মান কমছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে আলাদা কলেজ গঠন ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানায়, শূন্য পরীক্ষার্থী থাকা কলেজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন