প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে কমছে না দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬

বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেও চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

চিকিৎসা সেবায় হাসপাতালের বেশ সুনাম থাকলেও গুটি কয়েক দালালের কারণে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেশীরভাগ রোগী অসহায় এবং হতদরিদ্র। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আসা এসব রোগীরাই দালাল চক্রের মূল টার্গেট।

হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক একাধিক বার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সুচিকিৎসা নিশ্চিত করণ, রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পরিবেশন, প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করণ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এমপি’র নির্দেশনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হাসপাতালের অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে।

অভিযানের কয়েক মাস যেতে না যেতেই পুনরায় হাসপাতালজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠে দালাল চক্র।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ড, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিভাগ এবং হাসপাতালের প্রবেশমুখে দালালরা অবাধ বিচরণ করছে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের ঘিরে ধরে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী ও বহিরাগত দালাল সিন্ডিকেট রোগীদের নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছে।

সেখানে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বেশ কিছু রোগী জানান, গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অসহায় ও হতদরিদ্র রোগীরাই দালালদের প্রধান টার্গেট।

এই চক্রটি চিকিৎসকের কক্ষ, টিকিট কাউন্টার কিংবা ঔষধ বিতরণ কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নেয় এবং রোগীদের বিভ্রান্ত করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। পূর্বেও এমন অভিযোগে একাধিকবার দালাল আটকের ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় রোগীকে এই হাসপাতালে পরীক্ষা করার সুযোগ না দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। এতে গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে।

তাদের দাবি, হাসপাতালের ভেতরে দালালদের সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ থাকায় এ চক্র বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযান নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযানে একাধিক দালাল আটক হয়েছে।

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি রোগীদের সচেতন করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দালালমুক্ত হাসপাতাল গড়তে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে সাধারণ রোগীদের প্রশ্ন একের পর এক অভিযান ও ঘোষণার পরও যদি দালালদের দৌরাত্ম্য না কমে, তাহলে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে কীভাবে।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন