হাজীগঞ্জের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের সমাজে মাদকের বিস্তার দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হাজীগঞ্জ শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন মহল্লায় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতের আঁধার শুরু হওয়ার পর কাকডাকা ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন মহল্লা মাদক কারবারীর ও সেবনকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। মাদকের এই ছোবল শুধু কিছু ব্যক্তির সংকট নয়; এটি আজ পুরো সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের তরুণ, যুবসমাজ। যে তরুণদের হাতে আগামী দিনের হাজীগঞ্জ গড়ে ওঠার কথা, পরিবার ও সমাজের নেতৃত্ব দেয়ার কথা। তাদের অনেকেই আজ নেশার অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। মাদকের ছোবল পরিবারে অশান্তি বাড়ছে, সামাজিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে, অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় কাউকে এককভাবে দায়ী করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। বরং আমাদের দেখতে হবে— কোন কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে সবাই মিলে এই সংকট মোকাবিলা করা যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমাদের প্রত্যাশা, মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর, নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা করবেন। একইসঙ্গে গ্রেপ্তারের পর অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক নেতৃবিন্দু এবং জনপ্রতিনিধিদেরও আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। উন্নয়নের পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনের দায়িত্বও তাদের। মাদকবিরোধী জনসচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগ ও নেতৃত্ব প্রয়োজন।
মসজিদের ইমাম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জুমার খুতবা, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক কার্যক্রমে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তারা তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারেন।
শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সন্তানদের প্রতি নজরদারি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা অনেকাংশে এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমাদের যুবসমাজকে স্বপ্ন দেখাতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি না করে শুধু দমনমূলক ব্যবস্থা দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জন করা কঠিন। বেকারত্ব দূর করার জন্য কর্মমূখি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
আসুন, আমরা দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে একটি মাদকমুক্ত হাজীগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। কারণ মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের একার লড়াই নয়; এটি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। হাজীগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে আল্লাহর ইচ্ছায় যদি আপনাদের সমর্থন পাই, এলাকার সচেতন তরুণ ও যুব সমাজ, দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মিলিতি প্রচেষ্টায় মাদকের বিরুদ্ধে আইন এবং সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে মাদকমুক্ত হাজীগঞ্জ শহর গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
জাকির মজুমদার
(মোহাম্মদ জাকির হোসেন)
সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজকর্মী
মেয়র পদপ্রার্থী
হাজীগঞ্জ পৌরসভা
হাজীগঞ্জ চাঁদপুর।